অবশেষে ১৪০ দিন পর স্বজনদের হাতে আফগান নাগরিকের লাশ

দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ১৪০ দিন পর ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে উদ্ধারকৃত আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মদীর মরদেহ উত্তোলন করে তার স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ঝিনাইদহ পৌর কবরস্থান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লাশটি উত্তোলন করা হয়।

মরদেহ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফারহানা তাসনিম, ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহেশপুর থানার এসআই টিপু সুলতান, নিহতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম, নিহতের ভাই ইমাল মোহাম্মদী, আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের প্রতিনিধি দুলাল হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।

আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভাইয়ের মরদেহ হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইমাল মোহাম্মদী। তিনি বাংলাদেশ সরকার, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অসুস্থ মায়ের শেষ অনুরোধ রক্ষার্থেই ভাইয়ের লাশ আফগানিস্তানে নিয়ে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করতে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন।

নিহতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান মাসুম জানান, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি পাওয়া যায়। তিনি এ কাজে স্থানীয় সাংবাদিকদের ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। লাশ হস্তান্তরের পর ইমাল মোহাম্মদী তা নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকার ইচ্ছামতী নদী থেকে হাসমতের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। সে সময় পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে বেওয়ারিশ হিসেবে তাকে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবি দেখে স্বজনেরা তার পরিচয় নিশ্চিত করেন। ভাইয়ের লাশটি নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আশায় টানা ৫০ দিন বাংলাদেশে অবস্থান করেন ইমাল মোহাম্মদী। শেষপর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলো।