বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, চলমান গ্যাস সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে এবং আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই সমাধান আসবে। এটিকে সরকারের অঙ্গীকার বলেও তিনি বর্ণনা করেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, মহেশখালীর গ্যাসের টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি হয়েছিল সেটা এখন ঠিক হয়ে এসেছে। ওখানে গ্যাস পুনর্ভরণ হয়ে আপনারা দেখবেন, এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যেই ইনশাআল্লাহ গ্যাসের সচল সরবরাহ হবে, গ্যাস সংকটের নিরসন হবে।
তিনি বলেন, রান্নাঘরে এখন গ্যাসের অভাবের যে চুলা অল্প জ্বলছে, সেই চুলা আবার জ্বলতে থাকবে। মিল-কল-কারখানার জন্য যে পর্যাপ্ত জ্বালানি দরকার, সেটির ব্যবস্থা ইনশাআল্লাহ এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে এটা হয়ে যাবে, এটা সরকারের কমিটমেন্ট।
রিজভী বলেন, জনগণের দুর্ভোগ নিরসন করার জন্য ইতিমধ্যেই দ্রুত এলএনজি কেনা, জ্বালানি কেনার জন্য সরকার আরও ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছে। বাজেটে জ্বালানি খাতে যে বরাদ্ধ আছে তার অতিরিক্ত এটি। তিনি বলেন, সরকার বসে নেই।
জ্বালানি সংকট বর্তমান সরকারের ‘ত্রুটির কারণে নয়’ জানিয়ে রিজভী বলেন, এই সংকট সরকারের ত্রুটির কারণে নয়। আপনারা জানেন, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ চলছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে সবচাইতে বেশি জ্বালানির জাহাজ আসে, কার্গো আসে, সেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ।
রিজভী আরও বলেন, সেখানে সবাই ভয় পাচ্ছে যে মাইন পোতা আছে, বোম পোতা আছে। আবার আকাশ দিয়ে বোম পড়ছে। যেহেতু যুদ্ধ চলছে সেজন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ আছে।
তিনি বলেন, এটি বৈশ্বিক একটি সংকট।
তিনি বলেন, এই সংকট কিভাবে নিরসন করা যায় সেজন্য মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ প্রত্যেকটি জায়গায় আমাদের সরকার উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ করেছে এবং দ্রুত যাতে এটা মোকাবিলা করা যায় সেই ব্যবস্থা তারা নিয়েছে।
গ্যাস সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে রহুল কবির রিজভী বলেন. যদি কনস্ট্রাক্টিভ বিরোধী দল হন তাহলে সেই কথাগুলো (গ্যাসের সংকটের কারণ) বলতে হবে। আর যদি সরকারকে বিপাকে ফেলা এবং ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের ব্যাপার হয় তাহলে সেটা ভিন্ন ব্যাপার। সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ স্থান দেয়, জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কোন পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত নেয়নি। যার কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে, বিএনপির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের কাছে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি উপলক্ষে মহানগর উত্তরের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ সারা দেশের বৃক্ষরোপন কর্মসূচির পালন করা হচ্ছে। নিম গাছের চারা লাগিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রিজভী।
বৃক্ষরোপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রিজভী বলেন, এই জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদকে নিরসন করতে হলে আমাদের বৃক্ষরোপণ করতে হবে। আমাদের হাজা-মজা যে সমস্ত জলাভূমি আছে সেগুলোকে পুনর্খনন করতে হবে, সেগুলোকে আরও বেশি নিষ্কলুষ করতে হবে। অর্থাৎ বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির কেমিক্যালের বর্জ্য গিয়ে এবং অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থ গিয়ে সেই পানিকে নষ্ট করছে। আমাদের নদী, নালা, খাল, বীর সেগুলো মুক্ত করতে হবে।
গুরু দায়িত্ব হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করা হবে এবং এই ব্যাপারে উনি সারা দেশের মানুষকে এবং দেশের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। স্কুলের যারা শিক্ষার্থী শিশু তাদের বৃক্ষরোপন করতে বলেছেন। একজন শিশু তার বাড়ির আঙিনায় বৃক্ষ রোপণ করবে।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব পানি সম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন, মহানগর উত্তরের মোস্তফা জামান প্রমুখ।