নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত ঘটানো হিমবাহটি বিপর্যয়ের কয়েক দিন আগেই অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছিল। হিমবাহ ধসের আগে এর পরিবর্তনের কিছু দৃশ্যমান লক্ষণও দেখা গিয়েছিল বলে জানিয়েছে বৈজ্ঞানিক গবেষণা জোট হাইরিস্ক। খবর সিএনএন ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
হাইরিস্কের নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপর্যয়ের আগে হিমবাহটিতে ‘পূর্বলক্ষণ’ দেখা গিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল হিমবাহ থেকে নেমে আসা গলিত পানির রং দৃশ্যত বাদামি হয়ে যাওয়া এবং আশপাশের শিলাস্তরের ঢালে একটি ফাটল ক্রমেই বিস্তৃত হওয়ার চিহ্ন।
গবেষকেরা বলছেন, এসব পরিবর্তন হিমবাহটির অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিলেও তখন এগুলো যে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পূর্বাভাস, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি।
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় দুই দেশে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এখনো প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ইউরোপের কোপার্নিকাস পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের জরুরি ব্যবস্থাপনা পরিষেবার পর্যালোচনা করা তিনটি সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মোট ভবনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ধ্বংস হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোও হিসাবে ধরলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার হার বেড়ে দাঁড়ায় ১০টির মধ্যে সাতটিরও বেশি। এতে বন্যার ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রবল স্রোত উপত্যকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়।
রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে অবস্থিত তিমুরে, স্যাব্রুবেশি ও বিদুর শহরের কিছু অংশ এই এলাকার মধ্যে রয়েছে। দুর্যোগের আগে এসব এলাকায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ বসবাস করতেন।
এদিকে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিএনএনের অ্যান্ডারসন কুপারকে জানিয়েছেন, প্রাণহানি কমাতে দেশটিতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভয়াবহ বন্যার মধ্যে কীভাবে ৫০ শিশুর জীবন রক্ষা করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন এক বাসচালক। অন্যদিকে বন্যায় নিখোঁজদের মরদেহ উদ্ধারে নেপালের পুলিশের সঙ্গে দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়েছে সিএনএনের একটি দল।
ভবিষ্যতে আরও হিমবাহ ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। নেপালের একটি প্রভাবগহ্বরকে ঘিরে থাকা কয়েকটি হিমবাহ এখনো ধসে পড়তে পারে এবং এতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতায় কিছুটা অগ্রগতির খবরও পাওয়া গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বুধবার জানিয়েছে, চীন-নেপাল সীমান্তের গিরং বন্দরের দিকে যাওয়ার উদ্ধারপথটি ‘বেশিরভাগ অংশে আবার খুলে দেওয়া হয়েছে’। এতে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।