জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আজকের পদক্ষেপই আগামীর নিরাপত্তা: পরিবেশমন্ত্রী

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, আজকের কার্যকর পদক্ষেপই আগামীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে সমন্বয় করে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। কার্বন নিঃসরণ কমানো, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, দূষণমুক্ত উৎপাদন এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, তাপদাহ ও খরার মতো দুর্যোগ বাড়ছে। বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলীয় দেশের জন্য এসব ঝুঁকি বিশেষ উদ্বেগের।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ২০২৩-২০৫০ এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি ৩.০) প্রণয়ন করেছে বলে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প-নিঃসরণ উন্নয়ন কৌশল, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন ও অংশীদারত্ব জোরদারে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

Environment Minister

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

শিশু-কিশোরদের ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি পলিথিন ব্যবহার পরিহার, শব্দদূষণ রোধ, বিদ্যুৎ-পানি সাশ্রয় এবং বৃক্ষ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন বাস্তবতা। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহ গলে বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশেও আকস্মিক বন্যার প্রভাব বাড়ছে। আগাম সতর্কতা জারি করা গেলে কৃষির ক্ষতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং পরিবেশ মেলায় অংশ নেওয়া শ্রেষ্ঠ স্টলের মধ্যে পুরস্কার, ক্রেস্ট, সনদ ও প্রাইজমানি বিতরণ করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রতিযোগিতার বিজয়ী, অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।