অবকাঠামো নয়, শিক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: ববি হাজ্জাজ 

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এবার সরাসরি শিশুর শেখার ফলাফল ও দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। প্রতিটি শিশু কী শিখছে, কতটা শিখছে এবং শেখা বিষয় বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারছে কি না—নিয়মিত মূল্যায়নের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকবে শিশু ও তার শেখা। একটি শিশুকে শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও বাস্তব জীবনের উপযোগী সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য শুধু বই পড়ানো বা পরীক্ষায় ভালো ফল করানো নয়। প্রতিটি শিশুর জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি তার আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাও শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ কারণে শিশুর শেখার অগ্রগতি নিয়মিত যাচাই ও মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে।

চালু হচ্ছে ‘স্পিকিং টেস্ট’

শিশুদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘স্পিকিং টেস্ট’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, একটি শিশু কতটা পড়তে বা লিখতে পারছে, শুধু সেটি দিয়ে তার শেখার মূল্যায়ন করা যথেষ্ট নয়। নিজের কথা কতটা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারছে এবং অন্যের সঙ্গে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করতে পারছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

‘আমরা এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু শিখবে, নিজের কথা বলতে পারবে এবং ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।’

এক বছরে ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনে আগামী এক বছরের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্তসংখ্যক যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক প্রয়োজন। শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের পাঠদান আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।

শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করাকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে দক্ষ শিক্ষকই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।

মাঠপর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজের আহ্বান

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা-ভাবনা ও নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আলোকে একটি কার্যকর, মানসম্মত ও শিশুকেন্দ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে তুলে ধরা স্বপ্ন বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নীতিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এর বাস্তবায়নেও কার্যকর নজরদারি ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার সাফল্য শুধু বিদ্যালয়ের সংখ্যা, ভবনের মান কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নে নয়; বরং প্রতিটি শিশু কতটা শিখছে এবং সেই শেখা তার ভবিষ্যৎ জীবনে কতটা কাজে লাগছে—তার ওপরই শিক্ষার প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।