জ্বালানি সংকটের মধ্যে লংমার্চ গণবিরোধী কর্মসূচি: এমরান সালেহ প্রিন্স

জ্বালানি সংকটের মধ্যে গ্যাস-তেল ব্যবহার করে গাড়িবহর নিয়ে বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচিকে অবিবেচনাপ্রসূত ও গণবিরোধী উল্লেখ করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, জনগণের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে বিরোধী দলের এ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা উচিত।

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে বিরোধী দলের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, চলমান জ্বালানি সংকটের জন্য ছয় মাস বয়সী বিএনপি সরকার কোনোভাবেই দায়ী নয়।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকট, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনা এবং এ খাতে আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাট ও ভ্রান্ত নীতির কারণে গ্যাসের স্বল্পতা ও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোনো অজুহাত দিয়ে বিএনপি সরকার সমস্যা আড়াল করছে না। বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের বর্তমান সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বড় ধরনের ভর্তুকি ও আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের বর্তমান সংকটের কারণে পরিবহন, বিদ্যুৎ, রান্নাসহ গৃহস্থালি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় সহস্রাধিক গাড়ি নিয়ে (জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের ভাষ্যমতে) লাখ লাখ লিটার ও ঘনমিটার জ্বালানি খরচ করে লংমার্চ করলে সংকট ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসনের দাবি করে সংকট আরও ঘনীভূত করার কর্মসূচি নিশ্চয়ই গণবিরোধী ও হঠকারী এবং গণ-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, সারের পর্যাপ্ত মজুদ আছে, সার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সারের মূল্য বৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কেউ যাতে ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সেদিকে প্রশাসন ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল, জনগণই বিএনপির মূল শক্তি। জনগণের সুখ-দুঃখে বিএনপি তাদের পাশে থাকে। ৪৮ বছরে বিএনপি জনগণকে ছেড়ে যায়নি, ভবিষ্যতেও জনগণের সঙ্গে থাকবে।

তিনি বলেন, দেশ ও জাতির প্রয়োজনে, সংকটে, উন্নয়নে ও সমৃদ্ধি অর্জনে শহীদ জিয়া, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। তারেক রহমানও দেশ গড়ার মহাপরিকল্পনা নিয়ে অকুতোভয় সৈনিকের মতো কাজ করছেন।

তিনি বিএনপিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, জাহাজ ‘হামজা’ যেমন নদীতে ডুবে যাওয়া ভারী যানবাহন, নৌযান ও ফেরি সফলভাবে উদ্ধার করে, বিএনপি এবং শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানও তেমনি বিভিন্ন সংকটময় সময়ে দেশ ও জাতিকে উদ্ধার করে সফলভাবে পুনর্গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও বিএনপি এক ও অবিচ্ছেদ্য’—এই কথাটি শুধু একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জাতীয়তাবাদী চেতনার সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘ পথচলার প্রতিফলন। বাংলাদেশের স্বার্থ যেখানে, বিএনপির রাজনীতি সেখানেই। দেশের জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষার প্রশ্নে বিএনপি সব সময় জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, অধিকার ও স্বপ্নকে ধারণ করেই বিএনপির রাজনীতি এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, বিএনপিকে ধ্বংস ও বিনাশ করার অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু বিএনপি অবিনশ্বর, বিএনপি অবিনাশী। বাংলাদেশের স্বার্থ যেখানে, বিএনপির রাজনীতি সেখানেই। দেশের জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষার প্রশ্নে বিএনপি সব সময় জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে।

হালুয়াঘাট পৌর শহরের উত্তর বাজার ধানমহালে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুলের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, হালুয়াঘাট পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী, আব্দুল হাই, আলী আশরাফ, কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ, মিজানুর রহমান, সফিকুর রহমান, মোনায়েম হোসেন খান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মহিউদ্দিন, মনিরুজ্জামান স্বাধীন, হুমায়ুন কবির, আনোয়ার হোসেন, তাজিকুল ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, মোখলেছুর রহমান, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা হোসনে আরা নীলু, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মনোয়ারা বেগম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাঈমূর আরেফীন পাপন, শ্রমিক দলের সভাপতি আবদুল গণি, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুহুল আমিন খান, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক নূরে আলম জনি, তারাদলের আকিকুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক শেখ সাদির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।