সরকারি দলের আচরণে নিয়মিত সংসদে থাকার আগ্রহ কমে যাচ্ছে: বিরোধীদলীয় উপনেতা

জাতীয় সংসদে সরকারি দলের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, সরকারি দলের আচরণে আমাদের এই পার্লামেন্টে নিয়মিত থাকার ব্যাপারে খুব আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এটা আমি মনে করি দুর্ভাগ্যজনক।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ১০টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠনের পর তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকারি দলের সঙ্গে আলোচনায় (সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদে) আসনের অনুপাতে বিরোধী দলের ২৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। কমিটির সদস্য করার ক্ষেত্রে সেই অনুপাত মানা হলেও সভাপতির পদে তা মানা হচ্ছে না। আমরা এটা আশা করি, এটা আমাদের অধিকার যে সভাপতির পদেও আমরা ২৬ শতাংশ পাব।

তিনি বলেন, বিরোধী দলকে ১০টি কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল এবং তাদের কাছ থেকে তালিকাও নেওয়া হয়েছিল। মনে হচ্ছে সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে কিছুটা বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে। তারা নিজেরাই যেভাবে ডিসাইড করছে, সেটাই এখানে তারা প্রয়োগ করছে।

তিনি বলেন, এরপরে কমিটি গঠনের ব্যাপারে যদি উনারা একই নীতিমালা মেনে চলেন, তাহলে ওই সময়ে পার্লামেন্টে উনাদের কথা শোনার জন্য আমরা নাও থাকতে পারি। সেটা ওই মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কমিটিতে আসনের অনুপাতে বিরোধী দলের সদস্য রাখার বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। তবে বর্তমানে একই অনুপাতে সভাপতির পদ পাওয়াকে অধিকার হিসেবে দাবি করার আইনি ভিত্তি নেই। জুলাই জাতীয় সনদে আসনের অনুপাতে বিরোধী দলকে স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে। সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধনের পর কমিটি পুনর্গঠন হলে সেই অনুপাতে সভাপতির পদ দেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন বলেন, সহযোগিতায় আসবেন না, আবার জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে পাক্কা হিস্যা আপনাদেরকে এখনই দিতে হবে, সেই দুইটা একটু কন্ট্রাডিক্টরি।

এদিন কমিটি গঠনের প্রস্তাবগুলোকে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ‘সর্বসম্মতিক্রমে’ গৃহীত ঘোষণা করায় তাতে আপত্তি তুলে তাহের বলেন, বিরোধী দল প্রস্তাবগুলোর বিরোধিতা করেনি, তবে সমর্থনও দেয়নি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, কণ্ঠভোটের সময় বিরোধী দলের চিফ হুইপকেও ‘হ্যাঁ’ বলতে দেখে তিনি সর্বসম্মতির ঘোষণা দিয়েছিলেন।