বক্তৃতার শক্তি ও প্রভাব

মানুষের মনের ভাব প্রকাশের প্রভাবশালী মাধ্যম বক্তৃতা। শব্দ, কণ্ঠস্বর ও অঙ্গভঙ্গির সুনিপুণ সমন্বয়ে শ্রোতাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখার এই অসাধারণ ক্ষমতাকে বলা যায় এক ধরনের সম্মোহনী শক্তি। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে যোগ্য বক্তার এই শক্তিই বদলে দিয়েছে সাম্রাজ্যের সীমানা, শুরু করেছে বিপ্লব এবং হাজারো দিশেহারা মানুষকে দেখিয়েছে আশার আলো। বক্তৃতা দ্বারা কোনো জাতির উত্থান পতনের গল্প নির্মাণ সম্ভব।

পৃথিবীর ইতিহাসে যে বা যারা যখনই কোনো মতবাদ-মতাদর্শ প্রচারের কাজে নেমেছে, তারাই বক্তৃতার শিল্পকে ব্যবহার করেছে। এই বক্তৃতার উপস্থিতি ছাড়া প্রচারের কাজ সর্বকালে সর্বস্থানে অচল ও অকেজো। বক্ততা যে একটি সম্মোহনী শক্তি, এ কথার স্বীকৃতি আমরা কোরআন-হাদিসেও দেখতে পাই।

ইসলামে মার্জিত, সুগঠিত ও প্রভাবশালী বক্তব্যকে বিশেষ সম্মান দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ মানুষের সঙ্গে সুন্দর ও প্রজ্ঞাপূর্ণ ভাষায় কথা বলার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তুমি তোমার প্রতিপালকের পথের দিকে আহ্বান করো প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে...।’ (সুরা নাহল ১২৫)

হাদিস শরিফেও সুন্দর ও স্পষ্ট বক্তব্যের প্রশংসা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই কোনো কোনো বক্তব্য জাদুর মতো।’ (সহিহ বুখারি) রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ বক্তা। তিনি যখন খুতবা বা ভাষণ দিতেন, তখন তার কণ্ঠস্বর উঁচু হতো, ভাবাবেগ প্রকাশ পেত এবং বক্তব্য হতো স্পষ্ট ও অর্থবহ। তিনি জটিল ভাষা এড়িয়ে চলতেন যেন সাধারণ মানুষ সহজেই তা বুঝতে পারে।

হজরত আলী (রা.) বলেন, কথার আঘাত হৃদয়ে যতটা রক্তপাতের সৃষ্টি করে, তরবারির আঘাত ততটা সৃষ্টি করতে পারে না। পৃথিবীর বড় বড় উত্থান পতনগুলোর পেছনে চালিকাশক্তি হিসেবে যে মাধ্যমগুলো বেশি কাজ করেছে তা হলো বক্তৃতা। পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বক্তৃতা হচ্ছে আমাদের প্রিয়নবী (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণ। যে ভাষণটি তিনি আরাফাতের বিশাল ময়দানে প্রায় দুই লাখ সাহাবির সামনে দিয়েছিলেন। মানবতার সপক্ষে এত উন্নত বক্তব্য আজ অবধি কেউ দিতে পারেনি।

লেখক : শিক্ষক ও ধর্মীয় নিবন্ধকার