ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত মালয়েশিয়া-ফিলিপাইন

সপ্তাহজুড়ে ভয়াবহ দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে ইন্দোনেশিয়া। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানল থেকে তৈরি বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের কয়েকটি এলাকাতেও। এতে বায়ুদূষণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। খবর বিবিসির।

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপের ইন্দোনেশীয় অংশ কালিমেন্টানের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমও কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতিকর ধোঁয়ার সংস্পর্শে এসেছে। শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণ ও নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কয়েক হাজার কর্মকর্তা মোতায়েন করেছে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ। বন্যপ্রাণী রক্ষায়ও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

ইন্দোনেশিয়ায় শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমি ও পাম অয়েলসহ বিভিন্ন চাষাবাদের জন্য জমি পরিষ্কার করতে আগুন ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে। আইনগতভাবে এ পদ্ধতি নিষিদ্ধ হলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। শুষ্ক আবহাওয়ায় এসব আগুন অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে বনাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে দাবানলের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় মালয়েশিয়ার বোর্নিও অঞ্চলের সারাওয়াকে কয়েকটি এলাকায় বায়ুর মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কুচিংসহ কয়েকটি এলাকায় সরাসরি ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সিঙ্গাপুরও।

ফিলিপাইনের পালাওয়ান দ্বীপেও ধোঁয়ার প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ চোখ, নাক ও গলায় জ্বালাপোড়া এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যার কথা জানিয়েছে।

চলতি পরিস্থিতি ২০১৩ ও ২০১৫ সালের ভয়াবহ দাবানল ও ধোঁয়াশার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। ওই সময় ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়া দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরসহ আশপাশের দেশগুলোর জনজীবন ব্যাহত করেছিল।

ইন্দোনেশিয়া সরকার জানিয়েছে, দাবানলের পেছনে ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর ঘটনাও রয়েছে। প্রেসিডেন্ট প্রবোবো সুবিয়ান্তো অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।