কাজা নামাজের নিয়ম

ইসলামের পাঁচ স্তম্বের মধ্যে নামাজের স্থান দ্বিতীয়। এটি প্রত্যেক মুসল্লিকে দৈনিক পাঁচবার নামাজ আদায় করতে হয়। অনেত সময় ভ্রমণ, অসুস্থতা, ব্যস্ততার কারণে কারও কারও নামাজ বাদ পড়ে যায়। এ বাদ পড়া নামাজকে ইসলাম পরিত্যক্ত রাখার অনুমতি দেয়নি; বরং তা পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছে। ইসলামি পরিভাষায় একে বলা হয় কাজা নামাজ।

কেউ যথাসময়ে নামায পড়তে ভুলে গেলে এবং তার নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে, পরে যখনই তার মনে পড়বে তখনই ওই নামায কাজা পড়া জরুরি।

প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো নামায পড়তে ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে পড়ে, তাহলে তার কাফফারা হলো স্মরণ হওয়া মাত্র তা পড়ে নেওয়া।’অন্য এক বর্ণনায় বলেছেন, ‘এ ছাড়া তার আর কোনো কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) নেই।’(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৬০৩ নম্বর)

অর্থাৎ, নামাজ বাদ পড়ে গেলে সেটা চিরদিনের জন্য হারিয়ে যায় না। মনে পড়ামাত্রই তা পূর্ণ করতে হবে। এজন্য আলেমরা একমত হয়েছেন-ফরজ নামাজ ও ওয়াজিব নামাজ (যেমন বিতর) বাদ পড়লে তা কাজা করা ফরজ।

ওয়াক্তে কোন নামাজ কাজা করতে হয়?

ফরজ নামাজ: পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ যদি বাদ যায়, তা কাজা করতে হবে।

ওয়াজিব নামাজ: বিতর নামাজও কাজা করতে হবে।

তবে নফল নামাজের কোনো কাজা নেই।

কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম

১. নিয়ত করা: যেমন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমি অমুক দিনের যোহরের ফরজ নামাজ কাজা করার নিয়ত করছি ।

২. সময়: কাজা নামাজ দিনের বা রাতের যেকোনো সময়ে পড়া যায়। তবে তিনটি সময়ে নামাজ পড়া হারাম- সূর্যোদয়ের সময়, দুপুরে সূর্য মাথার ওপরে থাকা অবস্থায়, সূর্যাস্তের মুহূর্তে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮৩১)

৩. ক্রমানুসরণ (তারতিব): যদি অনেক দিনের নামাজ জমা হয়ে যায়, তখন ধারাবাহিকভাবে পড়া জরুরি নয়। তবে এক-দুই দিনের নামাজ বাদ গেলে, ক্রমানুসারে আদায় করা উত্তম।

৪. কতটুকু পড়তে হবে: যে নামাজ বাদ গেছে, শুধু সেই পরিমাণ পূর্ণ করতে হবে। যদি বহু বছরের নামাজ বাদ পড়ে, তবে প্রতিদিন ফরজ নামাজের পর একটি করে কাজা পড়া বা আলাদা সময় ঠিক করে আদায় করা ভালো।