হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে রাখতে চান ট্রাম্প

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে হঠাৎ করেই এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় এর নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ রাখা যায় কিনা, সে বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। খবর সিএনবিসির।

তবে সামাজিক মাধ্যমে এই প্রস্তাব ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিভিন্ন মহল থেকে কৌতূহল ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শোরগোল পড়ে গেলে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি কৌশলী অবস্থান নিয়ে ইঙ্গিত দেন যে, প্রস্তাবটি কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের অংশ ছিল না, বরং কেবল আলোচনার উদ্দেশ্যেই তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশ দূরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীর নাম কীভাবে বা কোন আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিবর্তন করা সম্ভব, তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসন থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এটিই অবশ্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম কোনো ভৌগোলিক নামকরণের প্রয়াস নয়। এর আগেও নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে কার্যনির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া কানাডার সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধের সময় বিখ্যাত ‘লেক অন্টারিও’র নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মার্কিন অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক রেকর্ডে এসব পরিবর্তন দেখা গেলেও মেক্সিকো ও কানাডার মতো প্রতিবেশী দেশগুলো তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে টেক জায়ান্ট গুগল ও অ্যাপল পরবর্তীতে মার্কিন অঞ্চলের মানচিত্রে নতুন এই নামগুলো অন্তর্ভুক্ত করে।

এদিকে হরমুজ প্রণালী এবং এর পারাপার ব্যবস্থা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের দাবি, অঞ্চলটিতে ইরানের একক কর্তৃত্ব শিথিল হয়েছে এবং সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে সমুদ্রপথটিতে আমেরিকান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে এই প্রণালী দিয়ে সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত পূর্বের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশ অনেকটাই কমে এসেছে।

তবে পণ্য চলাচলের সার্বিক চিত্রে মার্কিন বাণিজ্য প্রশাসনের রয়েছে নিজস্ব হিসাব। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইটের মতে, হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিকল্প পাইপলাইন দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানির হিসাব যুক্ত করলে বর্তমান মোট তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব সময়কেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক চরম উত্তেজনার মাঝেও গত সোমবারে এই প্রণালী দিয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল নিরাপদে পরিবাহিত হয়েছে, যা চলমান সংঘাতের সময়কালের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড। সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও সরবরাহ সচল রাখা নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বার্তা দিয়েই যাচ্ছে।