পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, পার্বত্য এলাকার সকল জাতিগোষ্ঠীর সুষম উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সম্প্রীতিকে সবার ঊর্ধ্বে রেখে এই এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা, যাতে কোনো জাতিগোষ্ঠী পিছিয়ে না পড়ে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বান্দরবানে একদিনের সরকারি সফরে গিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরিদর্শন, ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন ও উদ্বোধন কার্যক্রম শেষ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো হচ্ছে, সেগুলো যেন আগের মতো লোকদেখানো উন্নয়ন না হয়। আমরা সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে গুরুত্ব দিয়ে এমন উন্নয়ন করতে চাই, যা গণমানুষের কাজে লাগবে এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে। আজ একটি প্রকল্প করলাম, আর কালই সেটি অচল হয়ে গেল বা কার্যকর থাকল না এ ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আমরা আর করতে চাই না।
পাহাড়ে ভূমি জটিলতার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো সমস্যা হুট করে সমাধান করা সম্ভব নয়। এসব বিষয় আগে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করতে হবে। পর্যালোচনার ক্ষেত্রে স্থানীয় সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী, সিভিল প্রশাসন রয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি সম্মিলিত ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে, যাতে এর মাধ্যমে এলাকার সবাই উপকৃত হতে পারে।
এখানে অত্যন্ত চমৎকার দুটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি হচ্ছে শিশুদের জন্য হোস্টেল এবং অন্যটি একটি আধুনিক মেডিকেল ফ্যাসিলিটি। এখান থেকে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। আমার মনে হয় গত বছর প্রায় ১০ হাজার মানুষ বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।
জেলা পরিদর্শনকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) অনুপ কুমার চাকমা, সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো.আরিফুল ইসলাম, বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. কামরুল হাসান খানসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, সেনাবাহিনী ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।