প্রায় পাঁচ মাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে যোগ দেন। এর আগে, তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ ভবনে নিজ অফিসে দাপ্তরিক কাজ করেন।
পরে হুইলচেয়ারে করে তিনি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করলে দলের নেতাকর্মীরা তাকে অভিনন্দন জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, 'দীর্ঘ ৫ মাস চিকিৎসার পর আপনি দেশে ফিরে এসেছেন। আমরা আপনাকে এই সংসদে স্বাগত জানাচ্ছি।'
বিরতির পর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এক পর্যায়ে মির্জা আব্বাসকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শুরুতে মির্জা আব্বাস সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা জানেন আমি প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন ছিলাম এবং আছি। নির্বাচনের পরপর কোনো এক মিটিংয়ে গুরুতর রোগাক্রান্ত হই। তারপর থেকে আমি বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলাম, এখনো আছি।’
তিনি বলেন, 'আবেগ-ভালোবাসার কারণে আমাকে আসতে হয়েছে। আমার চিকিৎসা শেষ হয়নি।'
এরপর তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন ও বিশেষ স্মরণীয় একটি দিন। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আজ আমি মহান জাতীয় সংসদের এই পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি সংসদ সদস্য হিসেবে।’
'এমন আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত আর কী হতে পারে? অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে বর্তমান সংসদ যাত্রা শুরু করার পর পরই গত ১১ মার্চ স্ট্রোক আক্রান্ত হয়ে আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি। দীর্ঘসময় চিকিৎসার জন্য আমাকে সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া থাকতে হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতা কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সংসদের অধিবেশনের নিয়মিত উপস্থিত হতে পারিনি। চিকিৎসা শেষে বলা ভুল হবে, আমার চিকিৎসা এখনো শেষ হয়নি। চিকিৎসার মাঝপথে প্রথমবারের মতো আমি সংসদের অধিবেশনে উপস্থিত হয়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি,' বলেন তিনি।
দোয়া ও খোঁজখবর নেওয়ায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এই বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ আরও বলেন, ‘আমার অসুস্থতার সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সার্বক্ষণিক আমার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। এজন্য আমি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও আপনাদের সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।’
স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আমাকে দেখেছেন। যদিও আমি আপনাকে দেখতে পারিনি, আমি তখন অচেতন ছিলাম। আমি পরে জেনেছি। একজন সংসদ সদস্যের প্রতি স্পিকারের এই মানবিক ও আন্তরিক আচরণ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়, এটি আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক সুন্দর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
এরপর আবেগঘন কণ্ঠে মির্জা আব্বাস আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'আজ মহান সংসদে ফিরে এসে আমার মনে হচ্ছে জাতীয় রাজনীতি শুধু মানুষের মতপার্থক্য নয়, রাজনীতি মানুষের জন্য, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।'
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস বলেন, 'আল্লাহ যেন আমাকে সুস্থতা ও শক্তি দেন যেন আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য, বাংলাদেশের মানুষের জন্য অবশিষ্ট সময়টুকু আরও নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে পারি। ২০০৬ সালের পর আজ আবার এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমি শুধু এই কথা বলতে চাই, আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করার জন্য।’
এ সময় পাশে বসা ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান তাকে সহযোগিতা করেন বক্তব্য দিতে।