প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিএডিসির প্রত্যাশিত স্কেল ভেটিং বাস্তবায়ন

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রত্যাশিত স্কেল ভেটিং অবশেষে বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় বিদ্যমান গ্রেড অক্ষুণ্ণ রেখে সংশোধিত স্কেল ভেটিং আদেশ জারি হওয়ায় বিএডিসির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দ, স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান জানিয়ে বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আজকের নির্ধারিত আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত রেখেছেন।

বিএডিসিতে দীর্ঘদিন ধরে স্কেল ভেটিং বাস্তবায়নের জন্য প্রচেষ্টা চলছিল। অবশেষে স্কেল ভেটিংয়ের আদেশ জারি হলেও এতে বিভিন্ন পদের গ্রেড অবনমন এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে কঠিন শর্ত আরোপ করায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে প্রধান কার্যালয়সহ দেশের মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মবিরতি, মানববন্ধনসহ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিষয়টি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারিত হওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়। পরে বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অর্জিত গ্রেড ও পদমর্যাদা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান গ্রেড অক্ষুণ্ণ রেখে স্কেল ভেটিং কার্যকর করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর পূর্বের আদেশ পুনঃপর্যালোচনা করে অসামঞ্জস্যগুলো সংশোধন করা হয়। এরপর বিদ্যমান গ্রেড অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন স্কেল ভেটিং আদেশ জারি করা হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিএডিসির প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ একটি দাবি সম্মানজনকভাবে পূরণ হওয়ায় তাঁরা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা এবং আন্তরিক ভূমিকার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিএডিসির চেয়ারম্যান ও সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

স্কেল ভেটিং সংশোধনের দাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরা, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন এবং শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন কর্মসূচি পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় বিএডিসি কৃষিবিদ সমিতি, বিএডিসি প্রকৌশল সমিতি, বিএডিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিবিএসহ বিএডিসির অন্যান্য পেশাজীবী ও কর্মচারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, ঐক্য ও সহযোগিতাই এ অর্জনকে ত্বরান্বিত করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

কর্মকর্তাদের অভিমত, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক আদেশ নয়; বরং তাঁদের দীর্ঘদিনের কর্ম, পেশাগত মর্যাদা ও ন্যায্য প্রত্যাশার স্বীকৃতি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি অনুধাবন করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের প্রতি যে আন্তরিকতা ও সহমর্মিতা দেখিয়েছেন, তা বিএডিসির সর্বস্তরের জনবলের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও তাঁরা মনে করেন।

এ কারণে বিএডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে গ্রেড অবনমন ছাড়াই বহুল প্রত্যাশিত স্কেল ভেটিং বাস্তবায়ন ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা কেটে গিয়ে নতুন উদ্যম ও কর্মস্পৃহা সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই উপহারের মর্যাদা ধরে রেখে দেশের কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে বিএডিসির বীজ, সার ও সেচ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে তাঁরা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাবেন।

বিএডিসিতে বর্তমানে পেনশন প্রথা চালু নেই। অথচ দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার, বীজ ও সেচের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষিজমিতে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বিএডিসি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

এ অবস্থায় বিএডিসির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপে তাঁদের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি ও প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে বিএডিসিতে দ্রুত পেনশন প্রথা চালু করা হবে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে এবং তাঁরা আরও উৎসাহ, উদ্দীপনা ও কর্মস্পৃহা নিয়ে দেশের কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষকের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারবেন।

এ বিষয়ে আগামীকাল সকাল ১০টায় কৃষি ভবনস্থ সেমিনার হলে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।