তরুণ নির্মাতাদের নিয়ে ঢাকায় প্রথম ‘ফিউচারনেশন ফিল্ম ফেস্ট’

স্বাধীন ও তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষে ঢাকায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ফিউচারনেশন ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬’। আগামী ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর দুই দিনব্যাপী এই চলচ্চিত্র উৎসব বসবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে।

‘ফাউন্টেন ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই উৎসবে দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি সেমিনার, কর্মশালা, নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনা, পরিচালক পিচ, নেটওয়ার্কিং এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন থাকছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের নির্মাতারা উৎসবে চলচ্চিত্র জমা দিয়েছেন। ফলে এবারের আয়োজনে বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রও দেখার সুযোগ পাবেন দর্শকেরা।

উৎসবটির মূল লক্ষ্য সম্পর্কে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও উৎসব পরিচালক আইয়ুব উদ্দীন শিহাব বলেন, তরুণ নির্মাতা ও নতুন প্রজন্মের গল্পকারদের কাজ বৃহত্তর দর্শকের সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমকাল, সমাজ, ইতিহাস ও ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করতে চান তারা।

থাকছে ‘জুলাই’ বিশেষ বিভাগ

উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘জুলাই’ বিভাগ। এই বিভাগে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে নির্মিত প্রামাণ্য ও কাহিনিচিত্র প্রদর্শিত হবে।

আয়োজকদের ভাষ্য, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ, তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ এবং সেই সময়ের সংগ্রামের বাস্তবতাকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সংরক্ষণ করতেই এই বিশেষ বিভাগের আয়োজন।

তাদের মতে, চলচ্চিত্র শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; একই সঙ্গে এটি একটি সময় ও ইতিহাস সংরক্ষণের শক্তিশালী মাধ্যম। ‘জুলাই’ বিভাগ সেই ভাবনাকেই সামনে নিয়ে আসবে।

চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি নানা আয়োজন

দুই দিনের উৎসবে দেশি ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি থাকছে বিভিন্ন আলোচনা ও প্রশিক্ষণমূলক আয়োজন। ডকুমেন্টারি, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, ফটোগ্রাফি ও চলচ্চিত্রের কারিগরি বিষয় নিয়ে বিশেষ সেশন আয়োজন করা হবে।

এ ছাড়া নির্বাচিত নির্মাতারা ‘ডিরেক্টর’স পিচ’-এর মাধ্যমে নিজেদের চলচ্চিত্রের ভাবনা, নির্মাণ-অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীল প্রক্রিয়া দর্শকদের সামনে তুলে ধরবেন। থাকবে নির্মাতা ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

উৎসবের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

স্বাধীন চলচ্চিত্রের জন্য নতুন পরিসর

আয়োজক ‘ফাউন্টেন ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ’ মনে করে, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও বাংলাদেশে স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা নিয়মিত কাজ করছেন। তবে তাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও দেশি-বিদেশি নির্মাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত।

এই বাস্তবতায় স্বাধীন চলচ্চিত্রচর্চার জন্য একটি নতুন সাংস্কৃতিক পরিসর তৈরির লক্ষ্যেই ‘ফিউচারনেশন ফিল্ম ফেস্ট’ আয়োজন করা হচ্ছে। উৎসব প্রাঙ্গণে চলচ্চিত্র ও ‘জুলাই’কে কেন্দ্র করে ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী, আলোকচিত্র ও শিল্পভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজনও থাকবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘ফিউচারনেশন ফিল্ম ফেস্ট’ শুধু দুই দিনের একটি চলচ্চিত্র উৎসব হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে এটি তরুণ ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে এবং দেশি-বিদেশি নির্মাতাদের মধ্যে নতুন যোগাযোগ ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে।