অবিলম্বে দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের দাবি সাংবাদিক নেতাদের

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাংবাদিকদের আর্থিক সংকট নিরসনে অবিলম্বে দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন এবং অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ ভাতা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

ডিইউজে সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএফইউজে মহাসচিব মো. কাদের গনি চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার।

সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং দৈনন্দিন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সাংবাদিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০১৯ সালে সাংবাদিকদের জন্য ঘোষিত ‘নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ’ নানা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে অনেক সংবাদমাধ্যম এখনো বাস্তবায়ন করেনি।

তারা বলেন, নবম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন এবং সাংবাদিকদের জন্য নতুন ওয়েজ বোর্ড গঠনের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

সাংবাদিক নেতারা আরও বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য সম্প্রতি অনুমোদিত জাতীয় বেতন স্কেলে উল্লেখযোগ্য হারে বেতন-ভাতা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু গণমাধ্যমকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টি উপেক্ষিত থাকলে সমাজে বৈষম্য আরও বাড়বে। তাই সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিএফইউজে মহাসচিব মো. কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ‘সরকার যেভাবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে, সেভাবে সাংবাদিকদের বেতনও বাড়াতে হবে। অবিলম্বে দশম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণা করতে হবে।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাবেক সভাপতি মুরসালিন নোমানী, বিএফইউজের সহসভাপতি মো. খায়রুল বাশার, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন, ডিইউজের সহসভাপতি রফিক মুহাম্মদ ও রাশেদুল হক এবং জাতীয় প্রেস ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ বেগম পলি প্রমুখ।