নেপালের ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা যেন ভয়াবহ এক ট্র্যাজেডির মাঝে আশার আলো দেখিয়েছে। আকস্মিক বন্যার পর টানেলে আটকা পড়া নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছে একটি টানেলে নয় দিনের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ ৪০ বছর বয়সী নিরাজ বাবু রেগমির ভাই জানিয়েছেন, দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের খবর তাদের পরিবারকে আশাবাদী করে তুলেছে। তারা এখন বিশ্বাস করছেন, নিরাজও হয়তো জীবিত অবস্থায় ফিরতে পারেন।
সিএনএনকে ফোনে ৩০ বছর বয়সী ক্ষিতিজ সামাসের রেগমি বলেন, 'আমরা আশা করছি, দলের বাকিরাও সবাই একসঙ্গে টানেলের ভেতরে আছেন এবং কোনোভাবে একে অপরকে সহায়তা করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন।'
তিনি জানান, তার ভাই নিরাজ সাধারণত অন্য একটি স্থানে কাজ করেন। তবে বন্যার মাত্র দুই দিন আগে তাকে ত্রিশূলী প্রকল্পে বদলি করা হয়েছিল। নিরাজের স্ত্রী ও দুই মেয়ে আবু খাইরেনিতে বাড়িতে তার ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ক্ষিতিজ বলেন, 'আমরা জানি না সে টানেলের ভেতরে ছিল কি না, সে বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে। কিন্তু আমরা দেখছি, উদ্ধারকারী দল দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে। এটা আমাদের সাহস জোগাচ্ছে এবং আশা বাঁচিয়ে রাখছে।'
বন্যার দুই দিন পর ক্ষিতিজ তার বাবা ও আরেক ভাইকে নিয়ে টানেলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে পথে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ, ভেঙে পড়া সেতু ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে তারা আর সামনে এগোতে পারেননি।
তিনি জানান, সেখানকার মাটিও হাঁটার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন তার পরিবার উদ্ধারকারী দলগুলোর নিরলস প্রচেষ্টার ওপরই ভরসা করছে। ক্ষিতিজের ভাষায়, তাদের এই প্রচেষ্টাই 'আশা বাঁচিয়ে রাখছে।'
ভাইকে জীবিত উদ্ধার করা গেলে তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ক্ষিতিজ। তিনি বলেন, 'তাকে উদ্ধার করে আনা হলে আমি সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে যাব। তার যা প্রয়োজন, যা চাইবে, সব নিয়ে যাব এবং সুস্থ হয়ে ওঠার পুরো সময়টায় তার পাশে থাকব।'
বন্যায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। নেপাল সরকার জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক।