ঈমান দুর্বল হলে আমলও দুর্বল হয়

একজন মুসলমানকে সর্বপ্রথম আল্লাহ তা’আলার প্রতি ঈমান আনতে হয়। ঈমানের শাব্দিক অর্থ বিশ্বাস। মানুষ যত কাজই করে-তার সবগুলোর মূলেই একটি বিশ্বাস থাকে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, মানুষ খাবার খায়। কারণ, তার বিশ্বাস খাবার খেলে ক্ষুধা দূর হয়, শরীর গড়ে উঠে এবং স্বাস্থ্য ভাল থাকে। এ বিশ্বাস যার নেই, সে খাবে না। আবার রোগী ওষুধ খায়। তার বিশ্বাস, ওষুধ খেলে রোগ সেরে যাবে। এ বিশ্বাসের অবর্তমানে কোনো রোগীই ওষুধ ব্যবহার করবে না। এভাবেই অসংখ্য উদাহরণ দিয়ে বুঝানো যেতে পারে যে, মানুষ বিশ্বাস ছাড়া কোনো কাজই করে না।

গাছের মূলে যেমন বীজ, তেমনি মানুষের সকল কাজের মূলেই রয়েছে একটা না একটা বিশ্বাস। স্বাভাবিকভাবেই মুসলমান হতে হলেও কতকগুলো বিষয়ে বিশ্বাস থাকা দরকার। দুনিয়ায় অসংখ্য মানুষ রয়েছে। তাদের কেউ হিন্দু, কেউ বৌদ্ধ, কেউ খৃস্টান ইত্যাদি নামে পরিচিত। আবার আমরা মুসলমান নামে পরিচয় দেই। কাজেই অন্যান্য জাতির সাথে মুসলমানের পার্থক্য কি? তারাও মানুষ অথচ মুসলমান নয়। তারা কেন মুসলমান নয়, আর আমরাই বা কেন মুসলমান এটা সকলেরই জানা দরকার।

মূলত বিশ্বাসের দরুনই মানুষ পৃথক পৃথক পরিচয় দিয়ে থাকে। এ দুনিয়ার চলার পথে কিভাবে জীবন কাটাতে হবে, সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতাবলম্বীদের ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাস রয়েছে। যেসব বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে মুসলমান হওয়া যায়, সেগুলোকেই একত্রে ঈমান বলা হয়। ঈমানই মুসলমানের জিন্দেগীর মূল। ঈমান দুর্বল হলে আমলও দুর্বল হয় এবং ঈমান মজবুত হলে মুসলমানের যাবতীয় আমলও সে অনুসারে মজবুত হয়। আমরা তাই পরবর্তী আলোচনায় ঈমানের বিষয়বস্তুগলো জেনে নিতে চেষ্টা করবো।