রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মানুষের অভাব নেই: মান্না

বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সালাম তালুকদার: নেতা ও মানুষ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে জামালপুর সমিতি, ঢাকার আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজনীতিবিদ ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। বিশেষ অতিথি ছিলেন মরহুমের রাজনৈতিক উত্তরসূরি, জামালপুর-৪ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামালপুর জেলা বিএনপির তিনবারের সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম। প্রধান আলোচক ছিলেন সমিতির মহাসচিব ও ক্যান্সার প্রতিরোধ আন্দোলনের পথিকৃৎ অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার যোগ্য সহযোদ্ধা ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরলে স্বৈরাচারী এরশাদের নানা প্রলোভনে দলের অনেক নেতা তাঁকে ছেড়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় সবচেয়ে যোগ্য ও আস্থাভাজন বিবেচনায় খালেদা জিয়া ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। তিনি সেই আস্থার মর্যাদা রেখেছেন।

ডা. রাসকিন আরও বলেন, গভীর দেশপ্রেম, প্রশ্নাতীত সততা, উন্নত শিক্ষা ও মননশীলতা এবং মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধ ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারকে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে জনমনে আলাদা অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

নিজের চিকিৎসক হয়ে ওঠা এবং অর্থবিত্তের পেছনে না ছুটে ক্যান্সার প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার পেছনে চাচা সালাম তালুকদারের আগ্রহ ও অনুপ্রেরণার কথাও স্মরণ করেন ডা. রাসকিন। ঢাকা ও দিনাজপুরে অলাভজনক সেবামূলক ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগেও তাঁর অনুপ্রেরণা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মানুষের অভাব নেই। কিন্তু নীতি ও আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো প্রজ্ঞাবান মানুষের বড় অভাব। ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার ছিলেন তেমনই একজন বিরল রাজনীতিবিদ। ক্ষমতার ভেতরে থেকেও তিনি বিনয়ী থাকতে জানতেন এবং দলকে সুসংগঠিত রাখতে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। নব্বইয়ের আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি তাঁর সৌজন্যবোধ আজকের রাজনীতিতে বিরল দৃষ্টান্ত।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম বলেন, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার কেবল জামালপুর বা বিএনপির নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এ দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের অভিভাবক। ব্যক্তিগতভাবে তিনি আমার কাছে বটবৃক্ষের মতো ছিলেন। তাঁর ছায়াতলে থেকে দেশপ্রেম ও রাজনীতির প্রকৃত পাঠ গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায়ে থেকেও কীভাবে মাটির কাছাকাছি থাকা যায় এবং মানুষের মন জয় করা যায়, সালাম তালুকদার তা দেখিয়ে গেছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করেই দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।

সমিতির সহসভাপতি আফজাল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমিতির সহসভাপতি ও সাবেক মহাসচিব মো. নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মুজিবুর রহমান, আবু বকর সিদ্দিক, হাসিনুর রহমান চৌধুরী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হাসানুজ্জাম শিবলী, মেজর (অব.) আব্দুর রব ও ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবীর আকন্দ। আলোচনা শেষে মরহুম ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।