দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী যুদ্ধের ময়দানে রূপ নিয়েছে ইউক্রেন। এই যুদ্ধ শুরুর পর উভয় পক্ষ থেকেই শান্তি আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন খুব কমই দেখা গেছে। সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে অনুষ্ঠিত একটি অর্থনৈতিক ফোরামে ভাষণ দেওয়ার সময় পুতিন বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত সংঘাতের সঙ্গে জড়িত দেশ দুটিকেই অর্থাৎ রাশিয়া ও ইউক্রেনকে এই সংকটের সুরাহা করতে হবে। যারা এই সমঝোতায় অবদান রাখার চেষ্টা করছেন, আমরা তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। এখানে কি কোনো সম্ভাবনা আছে? আমার মতে, হ্যাঁ, আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন, ভারতসহ একাধিক দেশ একটি শান্তিচুক্তিতে সমর্থন দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
ইউক্রেনের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শান্তি প্রচেষ্টায় ‘নতুন গতিশীলতার’ আশা করছে। কিয়েভে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সাংবাদিকদের বলেন- ‘আমার বিশ্বাস, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতার এই সক্রিয় পর্বটি নতুন করে শুরু হওয়ায় আমরা এখন শান্তি প্রচেষ্টায় একটি নতুন গতিশীলতা দেখতে পাব।’ তবে পুতিন বা সিবিহা কেউই এই অগ্রগতির সম্ভাব্য কারণগুলো সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। বরং রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো আলোচনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বৈঠকে বসেছিল যুদ্ধ লিপ্ত দুই দেশ।
এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডের গভীরে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বন্দরে পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে বৈরিতা তীব্র আকার ধারণ করে। এতে কৃষ্ণসাগর দিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, যা বিশ্ববাজারে শস্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে পুতিনের এই আশাব্যঞ্জক মন্তব্যের পর শিকাগো এক্সচেঞ্জে গমের ফিউচার প্রাইস বা ভবিষ্যৎ বিক্রয়চুক্তির মূল্যসূচক ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
যুদ্ধ বন্ধে সহায়তায় প্রস্তুত ভারত
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ভারত যে কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গত বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহার সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এই কথা বলেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিবিহার পাশে দাঁড়িয়ে জয়শঙ্কর বলেন, ভারত যে কোনো উপায়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
জয়শঙ্করের কিয়েভ সফরের আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত সোমবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মোদি বলেন, ‘ভারত শান্তির সব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও তা করে যাবে।’ তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয়। বিপরীতে শান্তির দিকে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ মানুষের মধ্যে নতুন আশা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। মোদি আরও বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই অন্তহীন যুদ্ধ থেকে সরে এসে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে।’ দ্রুত সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গান্ধী ও বুদ্ধের ভূমি ভারতের বার্তা একটাই শান্তির পথ।