দেশের অন্যতম একটি ক্রীড়া ফেডারেশন সাইক্লিং। নিজস্ব ভেন্যু নেই। ভেলোড্রামও নেই। তারপরও ফি বছর অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক, ব্যস্ত রোড কিংবা পাহাড়ি জনপদে আয়োজিত হয়ে থাকে এই ডিসিপ্লিনটি। এ নিয়ে কম আক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্টদের। তবে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ নতুন অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ হাসান। তিনি সাইক্লিং নিয়ে অদ্যোপান্ত বলেছেন সিনিয়র রিপোর্টার ওমর ফারুক রুবেল’র কাছে
সাইক্লিং নিয়ে নতুন কমিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
পারভেজ হাসান : আমরা দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র এক মাসের মতো হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছি। সেপ্টেম্বরে বা অক্টোবরে আন্তঃসার্ভিসেস সাইক্লিং প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চলবে। আমরা পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা তৈরি করছি। সেখানে ধাপে ধাপে ছয় মাস, এক বছর ও দুই বছরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। সবচেয়ে বড় পরিকল্পনার একটি ‘ট্যুর ডি বাংলাদেশ’ আয়োজনের।
পাঁচ বছরের পরিকল্পনা কেন? আপনাদের তো তিন মাসের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পারভেজ : পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি হতেই হয়। আপনি তিন মাসের জন্য দায়িত্বে থাকুন কিংবা তিন বছরের জন্য, পরিকল্পনা ছাড়া কোনো কাজ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমি আজ আছি, কাল হয়তো থাকব না। কিন্তু ফেডারেশনের পরিকল্পনা তো থাকবে। তাই যে-ই দায়িত্বে থাকুক, সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সাইক্লিংকে এগিয়ে নিতে হবে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাইক্লিংয়ের অবস্থান কেমন?
পারভেজ : আমরা একেবারে হতাশ নই। দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ সাইক্লিংয়ে মোটামুটি ভালো ফল করেছে। ২০১০ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দশম এসএ গেমসে আমরা ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিলাম। আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, বিশেষ করে অনুশীলনের ক্ষেত্রে। রাস্তায় অনুশীলন করতে হয়, অথচ নিরাপদ ও উপযুক্ত রাস্তার ব্যবস্থা নেই। আমাদের নিজস্ব মাঠ বা স্থাপনা থাকলে খেলোয়াড়দের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।
সাইক্লিংয়ের প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম কি বাংলাদেশে আছে?
পারভেজ : না, সব সরঞ্জাম আমাদের নেই। তবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তালিকা দিতে বলা হয়েছে। বিদেশ থেকে আসা সরঞ্জাম নিয়ে কর-সংক্রান্ত সমস্যাও রয়েছে। সম্প্রতি আমাদের ১২টি জার্সি এসেছে, যার মূল্য খুব বেশি নয়; কিন্তু কাস্টমসে এর ওপর প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা কর ধার্য করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। আশা করছি, ক্রীড়া সরঞ্জাম আমদানিতে করমুক্ত সুবিধার ব্যবস্থা হবে।
সামনে এশিয়ান গেমস। সেখানে বাংলাদেশ সাইক্লিংয়ের লক্ষ্য কী?
পারভেজ : এশিয়ান পর্যায়ে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, তারা দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুতি নেয়। আমাদের হাতে প্রস্তুতির সময় তুলনামূলক কম। তারপরও আমরা আশাবাদী। আমাদের চেষ্টা থাকবে প্রতিযোগিতায় অর্থবহ পারফরম্যান্স করা। আমরা চাই না শুধু অংশগ্রহণ করে ফিরে আসতে। যে প্রত্যাশা নিয়ে যাব, অন্তত সেই প্রত্যাশার আলো যেন দেখতে পারি।
এসএ গেমসের বাইরে বাংলাদেশের সাইক্লিংয়ে বড় কোনো সাফল্য আছে?
পারভেজ : এসএ গেমসের বাইরে বড় কোনো পদক আমাদের নেই। ২০১৯ সালে নেপালে আমরা অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে পদক না পেলেও আমাদের পারফরম্যান্স আশানুরূপ ছিল। আমরা ভেন্যুতে এক মাস অতিরিক্ত অনুশীলন করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছি। এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের প্রস্তুতিতে কাজে লাগাতে চাই।
আন্তর্জাতিক সাফল্যের ক্ষেত্রে সাইক্লিংয়ের সবচেয়ে বড় বাধা কী?
পারভেজ : মানসিক শক্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন রাইডারকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে মানসিকভাবেও লড়তে হয়। শুধু প্রতিপক্ষের সাইকেল কত দামের, সেটা দেখলে চলবে না। নিজের শারীরিক সক্ষমতা, প্রশিক্ষণ ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। আমরা চাই আমাদের খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক।
অবকাঠামোগত উন্নয়নে কী প্রয়োজন?
পারভেজ : নিরাপদ অনুশীলনের জায়গা সবচেয়ে জরুরি। বর্তমানে রাস্তায় অনুশীলন করতে গিয়ে নানা ঝুঁকি নিতে হয়। আমাদের নিজস্ব মাঠ ও প্রয়োজনীয় স্থাপনা থাকলে প্রশিক্ষণের মান অনেক বাড়বে। আর্থিক সংকট ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, কিন্তু পরিকল্পনা থাকলে ধীরে ধীরে অর্থের ব্যবস্থা করে এগোনো সম্ভব।
সাইক্লিংকে এগিয়ে নিতে আমাদের কি প্রয়োজন?
পারভেজ : বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশন একা এগোতে পারবে না। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা পাঁচ বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই। আমাদের খেলোয়াড়দেরও বিশ্বাস করতে হবে যে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লড়াই করতে পারে। আমরা বীরের জাতিÑ বাধা যতই থাকুক, লড়াই করে জয় ছিনিয়ে আনার মানসিকতা আমাদের থাকতে হবে।