পড়ন্ত বিকেলে ভ্রমণ পিপাসুদের ঢল

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার তিতাস নদীর তীর ও সেতু এখন ভ্রমণপিপাসুদের প্রিয় আড্ডাস্থল। প্রতিদিন পড়ন্ত বিকেলে, বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে, এখানে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা যায়। মৃদু বাতাস আর অস্তগামী সূর্যের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ছুটে আসেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কেউ তিতাসের স্বচ্ছ জলে ডিঙি নৌকায় ভেসে গান গাইছেন, কেউবা ব্যস্ত গোধূলির অপরূপ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সব বয়সী মানুষের এই প্রাণচাঞ্চল্যে প্রতিদিন বিকেলেই তিতাসের পাড়ে যেন উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়।

কথা হয় মুরাদনগর উপজেলা সদর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা চাকরিজীবী মীর হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বর্ষার এই সময়টাতে তিতাস নদীতে পানি ভরপুর থাকে। নৌকা দিয়ে ঘুরতে অনেক ভালো লাগে। তাই আজ পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এলাম। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখানে ঘণ্টা হিসেবে নৌকার ভাড়া বেশি নেওয়া হয়। অনেকের ইচ্ছে থাকলেও নৌকা দিয়ে ঘুরতে পারেন না।

নৌকার বেশি ভাড়ার বিষয়ে মাঝিদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, আগের তুলনায় নৌকা এখন অনেক বেশি দামে কিনতে হয়েছে। বর্ষার সিজনেই তারা নৌকাটা এখানে ব্যবহার করতে পারেন। বর্ষা চলে গেলে নৌকা পড়ে থাকে। সে জন্য ভাড়া একটু বেশি না নিলে পোষায় না।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাফি তার বন্ধুদের নিয়ে তিতাস নদীর ব্রিজে ঘুরতে আসে। ব্রিজের ওপর আড্ডা দেওয়ার সময় কথা হয় তাদের সঙ্গে। তারা জানায়, মুরাদনগরে ঘোরার মতো তেমন কোনো জায়গা নেই। তাই প্রায় সময় বিকেলে বন্ধুরা মিলে এখানে ঘুরতে আসে। ব্রিজে বসে বিকেলের সময়টা সবাই মিলে আড্ডা দেয়। কখনো কখনো নৌকা দিয়ে ঘুরে বেড়ায়।

বর্ষার জল, উন্মুক্ত ও নির্মল পরিবেশের অনন্য সমন্বয়ে তিতাস নদী ও তিতাস নদীর ব্রিজ এখন মুরাদনগরের অন্যতম আকর্ষণ। প্রকৃতির দেওয়া এই উপহারের কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটাতে প্রতিদিনই এখানে ছুটে আসছেন সৌন্দর্যপ্রেমী ভ্রমণপিপাসু শত শত মানুষ। আর প্রতিটি বর্ষাকাল যেন নতুন করে জানিয়ে দেয় তিতাস নদীর আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে কেবল বর্ষার জলেই।