পাথর সংকটে থমকে বাণিজ্য

সীমান্তঘেঁষা জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া-কামালপুর স্থলবন্দরে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। আশা করা হয়েছিল, এর মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে, তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান। এতে বাড়বে সরকারের রাজস্ব আয়। কিন্তু বাস্তবে ৩৩টি পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বন্দরটি অনেকটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে শুধু ভারতীয় পাথর আমদানির ওপর। সেই পাথর আমদানিও বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টালমাটাল হয়ে পড়েছে বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকারও।

আধুনিক এই স্থলবন্দর নির্মাণের পর নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হলেও কাক্সিক্ষত বাণিজ্যের দেখা মিলছে না বলে জানা গেছে। বন্দর শুল্কের হিসাবেও দেখা যাচ্ছে, ব্যবসার নিম্নমুখী চিত্র। পাথরসহ ৩৩টি পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ থাকলেও বন্দর চালুর পর থেকেই মূলত ভারতীয় পাথর আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। বিভিন্ন জটিলতায় সেই পাথর আমদানিও কমে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়ছে বন্দরের কার্যক্রম।

বন্দরকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানের ওপর নির্ভরশীল শ্রমিকরাও এর প্রভাব থেকে মুক্ত নন। পাথর আমদানি বন্ধ থাকলে দৈনিক মজুরিনির্ভর এসব শ্রমিকের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বন্দরকে ঘিরে গড়ে ওঠা ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও।

আমদানিকারকদের অভিযোগ, বন্দরে অতিরিক্ত ডিউটি ফি এবং একই গাড়িতে দুই দফা লোড-আনলোডের খরচ তাদের ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ কারণে ভারতীয় পাথরের পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামে ভুটান থেকে পাথর আমদানির সুযোগ তৈরির দাবি জানিয়েছেন তারা।

ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, স্থানীয় ও দেশের চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য পণ্য আমদানির পাশাপাশি রপ্তানিমুখী পণ্যের সংখ্যা বাড়ানো গেলে ফিরে আসতে পারে বাণিজ্যের গতি। একই সঙ্গে ইমিগ্রেশন সুবিধা চালু হলে দুই দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের যোগাযোগও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দর থেকে মাশুল আদায় হয়েছিল ৮০ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। পরের অর্থবছর ২০২৫-২৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩২ লাখ ২৮ হাজার টাকায়। আর চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত আমদানি না থাকায় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে ধানুয়া-কামালপুর স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) পার্থ ঘোষ জানান, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বছরের অধিকাংশ সময় পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকার কারণে তারা চরম বিপাকে পড়ছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, শ্রমিকদের জন্য কমিউনিটি টয়লেটসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশের চাহিদাসম্পন্ন পণ্য এলসির মাধ্যমে ভারত থেকে আনার বিষয়েও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি বন্ধেও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।