রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আরবি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আবু হাসনাত আবদুল্লাহর কিডনিতে পাথরজনিত চিকিৎসায় ব্যয় হয় প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। এ জন্য ঋণ করতে হয়েছিল। পরে স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আবেদন করে তিনি প্রায় ৭০ হাজার ৫০০ টাকা পান। তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ৭০ হাজার টাকা অনেক বড় সহায়তা। আমি অনেক উপকৃত হয়েছি। অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসান অসুস্থ হয়ে প্রায় চার মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন। খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। তিনি স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা থেকে ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছেন। এই অর্থ তার জন্য অনেক সহায়ক হয়েছে।
কেবল আবু হাসনাত আবদুল্লাহ কিংবা সাকিব আল হাসান নয়, বিশ^বিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিশ^বিদ্যালয়ে চালু হওয়া স্বাস্থ্য ও জীবনবীমার সুবিধা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন। তবে বীমা সুবিধা পেতে তাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
মো. আবু হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, টাকা পেতে তার লেগেছে প্রায় তিন মাস সময়। এক সময় মনে হয়েছিল হয়তো আর পাবেন না। সাকিব আল হাসান জানান, টাকা পেতে বেশ ভোগান্তি হয়েছে। তারা জানান, স্বাস্থ্যবীমা বিষয়ে জানার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট কোনো দপ্তর না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাছাড়া, বীমার আবেদন প্রক্রিয়াও জটিল। এটাও কিছুটা কমানো উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দুই বছর মেয়াদি স্বাস্থ্য ও জীবনবীমা কার্যক্রম শুরু করে জেনিথ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। ভর্তির সময় ফি’র সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বছরে ২৫০ টাকা প্রিমিয়াম দিতে হয়। বিপরীতে একজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিলে নির্ধারিত শর্তে বছরে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা এবং বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পান। এছাড়া কনসালটেন্সি ফি, মেডিকেল ফি ও প্যাথলজি ফিসহ চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যয়ও এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত। বীমার মেয়াদে কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে তার পরিবার দুই লাখ টাকা পেয়ে থাকে। ২০২৬ সালে আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে আবারও বীমা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জেনিথ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ‘ক্লেইম রিপোর্ট অন রাজশাহী ইউনিভার্সিটি’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রায় চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিষ্ঠানটি প্রিমিয়াম বাবদ পেয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ ৯৫ হাজার ৩৭৫ টাকা। এর বিপরীতে ৩ হাজার ৬০৩ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে মৃত্যুজনিত দাবিতে ১০ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ টাকা। বর্তমানে ২২৫টি ক্লেইম, যার পরিমাণ ৮ লাখ ৫২ হাজার ৭৪৬ টাকা, প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতিবেদনে ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ক্লেইমের তথ্য প্রকাশ করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্যবীমা বিষয়ে পরামর্শ ও তদারকির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক কোনো সেল নেই। বর্তমানে ছাত্র উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বীমা চালুর পর কোনো শিক্ষার্থী
পৃষ্ঠা ৯ কলাম ১ >
শিক্ষার্থীরা উপকৃত, দাবি
রোগে আক্রান্ত হলেই কেবল তিনি এ সুবিধা পান। বীমা দাবির জন্য শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ‘ঝঃঁফবহঃ ওহংঁৎধহপব’ বিভাগে আইডি ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে আবেদন করতে হয়। আবেদনপত্রে কোনো ভুল না থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাবে বীমার অর্থ পাঠানো হয়।
স্বাস্থ্যবীমা কার্যক্রমের তদারকি করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এএইচএম খুরশিদ আলম। তিনি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক চাপ কমাতে স্বাস্থ্য ও জীবনবীমা প্রকল্প চালু রয়েছে।
আবেদনকারীর নিজ নামে রকেট বা ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক। নিয়মিত ছাত্রত্ব বহাল থাকা পর্যন্ত এ সুবিধা কার্যকর থাকে এবং নীতিমালা অনুসরণ করে আবেদন করলে প্রাপ্য অর্থ শিক্ষার্থীর হিসাবে পাঠানো হয়।’
জেনিথ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডেপুটি ভাইস প্রেসিডেন্ট) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় আমরা আন্তরিক আছি। গত প্রায় চার বছরে সব মিলিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রিমিয়াম বাবদ পেয়েছি প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। বর্তমানে আমরা লোকসানে আছি। তারপরও বীমার মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে চুক্তি করা হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সুস্থ থেকে নির্বিঘেœ পড়াশোনা করবে এটাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যাশা। কিন্তু অনেক সময় হঠাৎ অসুস্থ হলে মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যবীমা চালুর পর এসব শিক্ষার্থী আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে এবং উপকৃত হচ্ছে। যারা জটিল রোগে আক্রান্ত, তাদের দ্রুত এ সুবিধার আওতায় আসার আহ্বান জানাই।’