'আমি কিছুই জানতাম না!' পাকিস্তান ক্রিকেটের নতুন নাটকে কোচের সাফাই

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের মাঝপথেই পাকিস্তান জাতীয় দলের ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মাইক হেসন জানিয়েছে, দলের সাম্প্রতিক বড় ধরনের রদবদল ও পরিবর্তনের সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে তিনি আগে থেকে খুব একটা অবহিত ছিলেন না।

বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হেসন স্বীকার করেন, পাকিস্তানের ক্রিকেটে গত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে এজবাস্টনে হতে যাওয়া তৃতীয় ও শেষ টেস্টে চোখ রেখে দলের মনোযোগ ধরে রাখাই এখন তার মূল লক্ষ্য।

বার্মিংহামে শুক্রবারের অনুশীলন সেশনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে হেসন বলেন, "পরিস্থিতি হঠাৎ করেই বেশ দ্রুত বদলে গেছে। আমি এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি দেখতে জাপানে ছিলাম, সেখান থেকে লাহোর হয়ে দ্রুত ইংল্যান্ডে চলে আসতে হয়। আমাকে এই দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করা হলে আমি সম্মতি দিই এবং দ্রুততম সময়ে সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।"

টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব হেসনের জন্য একপ্রকার অপ্রত্যাশিত ছিল। স্কোয়াড থেকে খেলোয়াড়দের দেশে ফেরত পাঠানোর যে সিদ্ধান্ত পিসিবি নিয়েছে, তার পেছনে হেসনের কোনো ভূমিকা ছিল না। বিশেষ করে সালমান আলী আগা—যাকে হেসন পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক করেছিলেন এবং যার সাথে হেসনের বেশ ভালো সুসম্পর্ক রয়েছে—তাকে টেস্ট দল থেকে বাদ দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সালমান আলী আগাসহ অন্য ক্রিকেটারদের বাদ পড়া নিয়ে হেসন জানান, "কেন তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তার ভেতরের সব বিস্তারিত কারণ আমার জানা নেই। আমি টেস্টের সিলেকশন প্যানেলে ছিলাম না, কেবল হোয়াইট বল (সীমিত ওভারের) দল নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলাম। আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক এবং সালমান আলী আগাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।"

তবে সবচেয়ে আলোচনা তৈরি করেছে অফস্পিনার আলী উসমানকে বাদ দেওয়া নিয়ে। সফরকারী প্রথম স্পিনার হিসেবে দ্য ওভালে প্রস্তুতি ম্যাচে ৫ উইকেট এবং হেডিংলিতে এক ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে নেওয়ার পরও লর্ডসে তাকে মাত্র ১২ ওভার বোলিং করানো হয় এবং পরে টেস্ট স্কোয়াড থেকেই ছেঁটে ফেলা হয়।

এ প্রসঙ্গে হেসন সরাসরি তার যুক্তি তুলে ধরে বলেন, "আলী উসমান একজন দারুণ বোলার, কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ইংল্যান্ডের এ সময়ে একাদশে কেবল একজন ফিঙ্গার-স্পিনারকে খেলানো, যিনি ব্যাটিং বা ফিল্ডিংয়ে কোনো অবদান রাখতে পারেন না, তা দলের ভারসাম্য নষ্ট করে। বিশ্বজুড়ে অন্য কোনো কন্ডিশনে হয়তো তিনি বিবেচনায় থাকতেন, কিন্তু এই কন্ডিশনে কেবল দিনে দুই-তিন ওভার বোলিং করানোর জন্য একাদশে কাউকে রাখা কঠিন।"

সিরিজের মাঝপথে খেলোয়াড়দের এভাবে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া নিশ্চিতভাবেই তাদের জন্য মানসিকভাবে কষ্টদায়ক বলে মেনে নেন হেসন। তবে পেছনের ভুল বা বিতর্ক নিয়ে না ভেবে সামনে এগোনোর কথা জানান তিনি।

হেসন আরও যোগ করেন, "যেকোনো সিরিজের মাঝপথে এমন অঘটন নিশ্চিতভাবেই অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে আমি অতীত না ঘেঁটে সামনের দিকে তাকাতে চাই। কিছু নতুন মুখ দলে এসেছে, তারা দলে নতুন শক্তি এবং বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য আনবে। আমরা যদি এজবাস্টনে ভালো পারফর্ম করতে পারি, তবে সেটিই হবে নতুন একটি শুরুর প্রতীক।"