গাঁজার গন্ধে বেসামাল সাবালেঙ্কার অভিযোগ 

নিউইয়র্কের ফ্লাশিং মেডোসে টেনিস বলের জোরালো আঘাতের শব্দ ছাপিয়ে আলোচনায় এক অদ্ভুত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ইউএস ওপেনের ম্যাচে কোর্টে গতকাল (শুক্রবার) গাঁজার তীব্র গন্ধ পেয়ে ম্যাচ থামিয়ে চেয়ার আম্পায়ারের কাছে নালিশ জানান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আরিনা সাবালেঙ্কা।

নিউ ইয়র্ক শহরের উন্মুক্ত পরিবেশে যেখানে গাঁজা সেবন বৈধ, সেখানকার কোর্টেও যে এর প্রভাব পড়তে পারে, তারই এক বাস্তব প্রমাণ মিলেছে টেনিসের এই বিশ্বমঞ্চে। 

ম্যাচে তখন কামিলা রাখিমোভার বিপক্ষে প্রথম সেটে ৩-০ গেমে এগিয়ে ছিলেন বেলারুশ তারকা। ঠিক সেই মুহূর্তেই কোর্টে তীব্র গাঁজার গন্ধ টের পেয়ে কিছুটা হাসিমুখেই চেয়ার আম্পায়ার ইভা আসদেরাকি-মুরের কাছে এগিয়ে যান তিনি। ম্যাচ চলাকালীন সেই মজার ও অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সাবালেঙ্কা জানান, কোর্টের বাইরে বা গ্যালারির বাতাস থেকে উড়ে আসা এই গন্ধের কারণে খেলোয়াড়দের জন্য নিজের সেরাটা দিয়ে লড়াই করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাবালেঙ্কা বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, শোনুন বন্ধুরা, আপনারা যা খুশি করতে পারেন, যা খুশি ধোঁয়া ওড়াতে পারেন, যতটা সম্ভব রিল্যাক্স থাকতে পারেন; কিন্তু দয়া করে টেনিস কোর্টের আশেপাশে এসব করবেন না। নিজের সেরাটা দিয়ে লড়াই করার সময় ওই গন্ধ সামলানো বেশ একটা ঝামেলার বিষয়।’ 

নিউ ইয়র্ক শহরের আইন অনুযায়ী গাঁজা সেবন বৈধ হওয়ায় টুর্নামেন্টের ভেন্যুতে এমন ঘটনা এর আগেও একাধিকবার আলোচনা তৈরি করেছে। বাতাসের বেগে গ্যালারি বা বাইরের চত্বর থেকে ভেসে আসা এই কড়া গন্ধের উৎস নিয়ে সাবালেঙ্কার মনে কিছুটা সংশয় থাকলেও, ক্যারিয়ারে এর আগে নিউ ইয়র্কে এত তীব্র গন্ধ তিনি কখনো পাননি বলেই জানান। বাতাস যেভাবে গন্ধটিকে স্টেডিয়ামের ভেতরে টেনে এনেছে, সে বিষয়ে দর্শকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তবে কোর্টের বাইরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত নাটকীয়তা ছাপিয়ে সাবালেঙ্কার জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, কোনো সেটে না হেরে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলো বা চতুর্থ রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। দুর্দান্ত সার্ভিং পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ম্যাচে ১০টি এইস হাঁকিয়েছেন এবং প্রতিপক্ষকে একটিও ব্রেক পয়েন্ট দেওয়ার সুযোগ দেননি এই বেলারুশ টেনিস তারকা।

চলতি বছরের মার্চে ইন্ডিয়ান ওয়েলস ও মায়ামি ওপেন ব্যাক-টু-ব্যাক জয়ের পর আর কোনো ফাইনালের দেখা না পাওয়ায় বেশ কঠিন ফর্মহীনতা নিয়েই নিউ ইয়র্কে পা রেখেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ৯৭ সপ্তাহ ধরে ধরে রাখা বিশ্বের এক নম্বর র‍্যাঙ্কিংয়ের মুকুট ধরে রাখতে হলে তাকে টানা তৃতীয়বারের মতো ইউএস ওপেন শিরোপা জিততে হবে, পাশাপাশি ২ নম্বর তারকা এলেনা রিবাকিনাকে সেমিফাইনালের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হবে, যা তার সামনে তৈরি করেছে বাড়তি চাপ।

কোর্টে সাবালেঙ্কা দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিলেও তার কাঁধে থাকা এই অতিরিক্ত চাপের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে অন্য এক জায়গায়। পলিনা ইয়াতচেঙ্কোর বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডে সহজ জয়ের পর পোস্ট-ম্যাচ প্রেস কনফারেন্সে এক সাংবাদিক ইউএস ওপেনের আগের সপ্তাহটিকে ‘পার্টি ও ফান’ হিসেবে উল্লেখ করায় সাংবাদিকের ওপর চটে যান সাবালেঙ্কা। মাঠের বাইরের ব্যস্ততা নিয়ে এমন প্রশ্ন তোলার ঘটনা ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ আপনারা কি কৌতুক করছেন? ‘পার্টি, ফান...’ মানে আপনারা এমন কথা বলছেন কেন? এমন কথা ভাবছেনই বা কেন? এটা কেমন ধরনের প্রশ্ন? শুধু আমি ব্র্যান্ডের কিছু কার্যক্রমের পোস্ট দিয়েছি বলেই আপনাদের মনে হয়েছে আমি ট্রেনিং না করে পার্টি করে বেড়িয়েছি?’ 

দীর্ঘ ও উত্তপ্ত সেই বাক্যবিনিময়ের সমাপ্তি টেনে সাবালেঙ্কা ওই সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘কোনো কথা বলার আগে একটু ভেবেচিন্তে বলবেন।’ 

মাঠের পারফরম্যান্সের এই ধারাবাহিকতার মাঝেই চতুর্থ রাউন্ডে সাবালেঙ্কার সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় এক পরীক্ষা। সেবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ের পথে তাকে মুখোমুখি হতে হবে স্বাগতিক ফেভারিট ও দারুণ ফর্মে থাকা ট্যালন টাউনসেন্ডের, যিনি ডায়না শ্নাইডারকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছেন।