প্রতিবন্ধী অধিকার সংসদীয় ককাসের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত-কে আহবায়ক করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বিষয়ক সর্বদলীয় সংসদীয় ককাস গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমপি সেলিমা রহমান ও জামায়াতের মহিলা শাখার সম্পাদক এমপি নুরুন্নিসা সিদ্দিকীকে সহ-আহ্বায়ক নির্বাচন করা হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সাইটসেভার্স, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) এবং ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস গঠন’ শীর্ষক উচ্চ-পর্যায়ের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো করুণা বা নিছক ভাতার বিষয় নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও সংবিধানে পূর্ণ সমান অধিকার রয়েছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে ‘প্রতিবন্ধী’ বলে আলাদা কিছু নেই, যা আছে তা হলো আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের তৈরি করা প্রতিবন্ধকতা। মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অবকাঠামোগত বাধার কারণেই মানুষ প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়। তাই সমাজের মনোজগতের পরিবর্তন ও ভৌত বাধাগুলো দূর করে প্রতিটি নাগরিকের পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার। 

সভায় সংসদ সদস্যদের মধ্যে আরো অংশ নেন, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান; অ্যাডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আরলী; ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম; মোস্তফা নাজমুন নাহার; নুরুন্নিসা সিদ্দিকী; নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি; নীলুফার চৌধুরী মনি; সানসিলা জেবরিন; এবং তাসমিয়া প্রধান। পাশাপাশি ওপিডি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘ সংস্থা, এনজিও, আন্তর্জাতিক এনজিও, শিক্ষাঙ্গন এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারী এমপিরা এই উদ্যোগের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তি এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। সংসদ সদস্যরা একমত হন যে, প্রতিবন্ধী অধিকার একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে থাকা উচিত এবং আইন প্রণয়ন, নীতি তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংসদের অভ্যন্তরে একটি বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন।

সভায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা দেশি-বিদেশি সংগঠন, ওপিডি প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এই ককাসকে সংসদীয় তদবির জোরদার করার ও আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের দিকে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৮০ দিনের মধ্যে প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। নীতিনির্ধারণী এই কমিটির পাশাপাশি গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বাস্তবায়ন কমিটিও পুরোদমে কাজ করছে। গত ছয় মাসে এই দুই কমিটি চারবার বৈঠকে বসে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাইটসেভার্স-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল-এর চিফ অফ পার্টি আমিনুল এহসান এবং বারডো -এর নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক।