'ইমরানের মতো মানুষ অমানবিক পরিস্থিতির শিকার', মানতে পারছেন না লারা

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের কারাগারে চিকিৎসার অভাব এবং মানবেতর জীবনযাপন নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কদের ধারাবাহিক প্রতিবাদের পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটার ব্রায়ান লারা। ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে লারা তাঁর সুচিকিৎসা ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টে লারা লিখেছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং একজন ক্রীড়াবিদ এবং মানুষের প্রতি মৌলিক মানবিকতার দাবি।
 
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই অধিনায়ক স্মরণ করেন খেলার মাঠে ইমরান খানের সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়ার স্মৃতি। লারা লেখেন, "খেলোয়াড়ী জীবনে মাঠে ইমরান খানের সঙ্গে আমার খুব বেশি দেখা হয়নি, কিন্তু তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা ছিল তাৎক্ষণিক ও চিরস্থায়ী। যে মানুষটি একসময় তাঁর দেশের আশা, গৌরব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক ছিলেন, সেই মানুষটিই আজ চরম অবহেলা ও অমানবিক পরিস্থিতির শিকার—এটা মানতে আমার কষ্ট হচ্ছে।"

লারা আরও উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা আইনি লড়াই যাই থাকুক না কেন, একজন ক্রীড়া কিংবদন্তির সঙ্গে এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা বিবেচনা করে লারা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ চিকিৎসকদের মাধ্যমে তাঁর জরুরি চিকিৎসার দাবি জানান, "আমি আমার সাবেক সহ-অধিনায়কদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি এবং দাবি জানাচ্ছি যে, ইমরান খানকে দ্রুত সঠিক ও স্বাধীন চিকিৎসা সেবা দেওয়া হোক। মানুষ হিসেবে তাঁর যে মর্যাদা ও যত্ন প্রাপ্য, তা নিশ্চিত করা উচিত। এটি কোনো রাজনীতি নয়; এটি খেলার মাঠের এক কিংবদন্তির জন্য মৌলিক মানবিকতার আহ্বান।"
 
২০২৩ সাল থেকে কারাবন্দী থাকা সাবেক এই পাকিস্তান অধিনায়কের স্বাস্থ্য ও আইনি নিরাপত্তা নিয়ে সম্প্রতি একাধিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার মুখ খুলেছেন। লারার এই বক্তব্য সেই তালিকায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল। ১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে একমাত্র ওডিআই বিশ্বকাপ জেতানো ইমরান খান পরবর্তীতে দেশটির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।