আজ চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি বাংলাদেশ

নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সামনে এবার বড় পরীক্ষা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। আজ তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ পর্বের এই লড়াই শুধু দুই দলের শক্তি যাচাইয়ের ম্যাচ নয়, সেমিফাইনালের পথ সহজ করার বড় সুযোগও।

‘বি’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে। এদিকে শ্রীলঙ্কা টানা দুই ম্যাচ জিতে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। আজ জয় পেলে সেমিফাইনালের পাশাপাশি গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হবে তাদের। এ জন্য বাংলাদেশ জয় ভিন্ন কিছু ভাবছে না। এই ম্যাচ জিতলে সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে নিগার সুলতানা জ্যোতিদের। এই টুর্নামেন্টে ভারত সবচেয়ে শক্তিশালী দল। আগের ৯টি আসরের মধ্যে ৭ বারই শিরোপা জিতেছে তারা। ‘এ’ গ্রুপে থাকা ভারত শীর্ষে থাকলে ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপের বিরুদ্ধে লড়বে। এ কারণেই বাংলাদেশ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমেছে।

দেশ ছাড়ার আগে অধিনায়ক জ্যোতি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেষ্টা করব। কারণ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সেমিফাইনালের সমীকরণটা আমাদের জন্য একটু ভালো হতে পারে। ভারতের মতো দলের বিপক্ষে সেমিফাইনালে পড়তে না হলে সেটাও একটা সুবিধা।’

জ্যোতির দলের সামনে অবশ্য কাজটা সহজ নয়। নারী টি-টোয়েন্টিতে সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড মোটেও ভালো নয়। দুই দলের সর্বশেষ কয়েকটি মুখোমুখি লড়াইয়ে শ্রীলঙ্কার আধিপত্যই বেশি। চলতি বছরের এপ্রিলে সিলেটে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হারায় লঙ্কানরা। সব মিলিয়ে এই সংস্করণে খেলা ১৬ ম্যাচে মধ্যে মাত্র ৩ জয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। শ্রীলঙ্কার মেয়েরা জিতেছেন ১৩ ম্যাচে। তবে এশিয়া কাপের ইতিহাসে দুই দলের লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা চারবার মুখোমুখি হয়েছে। দুই দলই জিতেছে দুটি করে ম্যাচ।

এবারের টুর্নামেন্টে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় এসেছে মূলত বোলারদের দাপটে। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১২৯ রান করেন জ্যোতিরা। সোবহানা মোস্তারির দায়িত্বশীল ৪০ রানের সঙ্গে শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ১৮ বলে অপরাজিত ৩১ রান লড়াই করার পুঁজি পায় দলটি। এরপর ইন্দোনেশিয়াকে মাত্র ৫৮ রানে গুটিয়ে ৭১ রানের বড় এনে দেন বোলাররা।

শ্রীলঙ্কাও দাপুটে ক্রিকেট খেলে নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা তাদের প্রথম দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৯ উইকেটে হারানোর পর ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে আরও বিধ্বংসী রূপে দেখা গেছে তাদের। মাত্র ১২৪ রান করেও ম্যাচটি ৭৫ রানে জেতে লঙ্কানরা। সে ম্যাচে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু বল হাতে হ্যাটট্রিকসহ একাই ৭ উইকেট নেন।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তাই আতাপাত্তুকে সামলানো। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় ম্যাচ উইনার। ব্যাট হাতে বড় ইনিংস বিস্ফোরক ইনিংস যেমন খেলতে পারেন, তেমনি প্রয়োজনে বল হাতেও প্রতিপক্ষের ব্যাটিং ধসিয়ে দিতে পারেন। বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে জয় বড় পেলেও ১২৯ রান তুলতে গিয়ে শুরুতে বেশ সংগ্রাম করতে হয় ব্যাটারদের।