ছোটদের জন্য বড় সুযোগ

ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি জাতীয় দলের পাইপলাইন আরও সমৃদ্ধ করতে নতুন কাঠামোয় যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এবার জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) চার দিনের সংস্করণে আট বিভাগের দুটি করে দল মাঠে নামাবে বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটি। মূল দলের পাশাপাশি থাকবে ‘এনসিএল সেকেন্ড ইলেভেন’ নামের আরেকটি দল। একই সঙ্গে দুই দলের মধ্যে ক্রিকেটারদের ওঠানামার সুযোগও রাখা হয়েছে। অর্থাৎ মূল দলের ক্রিকেটারদের জায়গা ধরে রাখতে যেমন নিয়মিত পারফর্ম করতে হবে, তেমনি সেকেন্ড ইলেভেনে থাকা ক্রিকেটারদের জন্যও ভালো খেলে মূল দলে উঠে আসার সুযোগ থাকবে।

নতুন এ ব্যবস্থায় কীভাবে ক্রিকেটারদের ওঠানামা হবে, সেটিও পরিষ্কার করেছেন বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটি চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা খেলোয়াড়দের ওঠানামার একটা ব্যবস্থা রেখেছি। ধরুন, মূল দলের কোনো খেলোয়াড় দুই-তিনটি ম্যাচ ভালো খেলতে পারল না, তাহলে তাকে নিচের দলে নামিয়ে দেওয়া হতে পারে। আবার নিচের দলে কোনো তরুণ খেলোয়াড় অসাধারণ খেললে তাকে ওপরের দলে তুলে আনা হবে।’

ফলে নতুন এই কাঠামোয় শুধু তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যই সুযোগ তৈরি হচ্ছে না, মূল দলের ক্রিকেটারদের জন্যও থাকছে বাড়তি চ্যালেঞ্জ। ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে না পারলে জায়গা হারানোর শঙ্কা থাকবে। সেকেন্ড ইলেভেনে থাকা কোনো ক্রিকেটার ভালো পারফর্ম করলে তার সামনে খুলে যাবে মূল দলে জায়গা করে নেওয়ার দরজা। এতে ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিযোগিতার মাত্রাও বাড়বে বলে মনে করছেন আলমগীর, ‘এভাবে খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। অনেকেই যেমন ওপরে উঠতে চাইবে, তেমনি মূল দলের খেলোয়াড়রাও পারফর্ম করে টিকে থাকতে চাইবে।’

তরুণ ক্রিকেটারদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বেশি সুযোগ করে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য বিসিবির। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের গণ্ডি পেরিয়ে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটারই পর্যাপ্ত প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার সুযোগ পান না। সেকেন্ড ইলেভেন শুরুর মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি তরুণদের নিজেদের প্রমাণের জন্য একটি কার্যকর মঞ্চ তৈরি করতে চায় ক্রিকেট বোর্ড। তবে মূল দল ও সেকেন্ড ইলেভেনের সুযোগ-সুবিধা সমান থাকছে না। দ্বিতীয় দলে ম্যাচ ফি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছে। এমনকি সেকেন্ড ইলেভেনের ম্যাচগুলো স্বীকৃত ম্যাচ হিসেবেও গণ্য হবে না। ফলে এই দল থেকে মূল দলে উঠে আসাটাই তরুণদের জন্য বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াবে।

তরুণদের সেই প্রতিযোগিতায় নামানোর কারণটিও ব্যাখ্যা করেছেন আলমগীর, ‘আমরা চাই তরুণ খেলোয়াড়রা উঠে আসুক। তাদের জন্য এটা একটা বড় সুযোগ ও মঞ্চ হবে। নিচের স্তরে যারা খেলবে, সেখানে সুযোগ-সুবিধা তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। ফলে তারা যেন আরও ভালো খেলে ওপরের স্তরের সেরা পাঁচ-সাতজনের মধ্যে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করে, সেই প্রতিযোগিতাটা তৈরি হবে। এ কারণেই আমরা এমন ব্যবস্থা করছি।’

তরুণদের জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরির পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পেশাদারিত্বের জায়গাটিও আরও কঠোর করতে চায় বিসিবি। এনসিএল সামনে রেখে ইতিমধ্যে ফিটনেস ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন মূল টুর্নামেন্টের খেলোয়াড়রা। আগামী ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর ফিটনেস পরীক্ষা দেবেন তারা। প্রথম পরীক্ষায় কোনো ক্রিকেটার উত্তীর্ণ না হলেও তার জন্য দ্বিতীয়বার সুযোগ থাকবে। তবে দ্বিতীয়বারও নির্ধারিত বেঞ্চমার্ক পূরণ করতে না পারলে ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকবে বোর্ড। গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি তামিম বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পেশাদারিত্বের জায়গায় কোনো ছাড় নেই। ফিটনেস পরীক্ষায় যদি কেউ উত্তীর্ণ হতে না পারে, এটা নিয়ে কোনো অনুরোধ বা এগুলো কোনো কিছু শোনা হবে না।’

ফিটনেস পরীক্ষার পর মাঠে গড়াবে এনসিএলের মূল পর্ব। প্রথম একাদশের ম্যাচ শুরু হবে ৩ অক্টোবর। এর চার দিন পর, ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় একাদশের ম্যাচ। বগুড়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেটের পাশাপাশি মিরপুরেও তিনটি ম্যাচের সূচি রেখেছে বিসিবি। দুই দলের ক্রিকেটের মধ্যে পার্থক্য থাকবে ম্যাচে ব্যবহৃত বলেও। মূল বা প্রথম একাদশের ম্যাচে ব্যবহার করা হবে কোকাবুরা বল। সেকেন্ড ইলেভেনের ম্যাচে ব্যবহার করা হবে এসজি বল। তবে কাঠামোগত এই পার্থক্যের মধ্যেও সেকেন্ড ইলেভেনকে মূল এনসিএলেরই অংশ হিসেবে দেখছে বিসিবি।