গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবিতে লংমার্চ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। রাজধানীর মতিঝিলে উদ্বোধনী জনসভার পর সকাল ৮টায় শুরু হয় বিরোধী জোটের এই কর্মসূচি। উদ্বোধনী সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের লংমার্চ ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। জনগণ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংকটে ভুগছে। কিন্তু তারপরও জনগণকে বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
গতকাল শনিবার ভোর থেকেই রাজধানীর মতিঝিলে জড়ো হন জোটের নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ৭টায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। বক্তব্য রাখেন এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তারা প্রায় সবাই বলেন, সরকার কথা রাখেনি বলেই বিরোধীদলকে বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চ যাত্রা করে। পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়া বাজার, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মীরসরাই নির্ধারিত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। রাতে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভার মাধ্যমে এ কর্মসূচি শেষ হয়। পথসভাগুলোতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, এ লংমার্চ আপামর জনতার। সরকার লংমার্চে বাধা দিলে তা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে এবং ১১ দলের ৬ দফা দাবি এক দফায় রূপ নেবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ক্ষমতার মসনদে বসে জাতিকে ভুলপথে পরিচালিত করার চেষ্টা করলে টেনে নামাতে আমাদের হাত এক চুলও কাঁপবে না।
মতিঝিল থেকে গাড়িবহর যাত্রাবাড়ী হয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এ সময় মিছিল ও সেøাগানে মুখরিত হয় রাজপথ। ব্যাপক লোকসমাগম এবং অতিরিক্ত গাড়ির চাপে বিভিন্ন এলাকায় যানজট দেখা দেয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।
আমাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, লংমার্চটি নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে গিয়ে পথসভা করে। এতে বক্তব্য রাখেন জোটের নেতারা। এতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা রাজপথে নেমেছি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিরসনের জন্য। এই সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি করছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। ১১ দলীয় ঐক্যজোট জনগণের পাশে আছে। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব। আপনারা বিজয়ের শেষ হাসি হেসে ঘরে ফিরবেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
আমাদের কুমিল্লা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার চৌদ্দগ্রামে পথসভায় হয়। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান কুমিল্লা নামেই বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানান। বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশে মাদকের জয়জয়কার চলছে এবং এসব মাদক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ নিজের এলাকার মাদকের চালান বন্ধ করতে না পারলেও তিনি সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন। এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, লংমার্চে আমরা রাস্তায় অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। আজ আমরা লংমার্চে এসেছি। হয়তো খুব শিগগিরই ঢাকায় লংমার্চের ডাক দেব। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার দাবি না মানলে ছয় দফা এক দফায় রূপান্তর হবে। সেই এক দফা হলো সরকারের পদত্যাগ।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে পথসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুমসহ ১১ দলের নেতারা।
আমাদের ফেনী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রামমুখী লংমার্চকে কেন্দ্র করে ফেনীর মহীপালে হোছাইনিয়া মাদ্রাসার সামনে অনুষ্ঠিত পথসভায় ব্যাপক জনসমাগম হয়েছে। এতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হলে মানুষ দুর্ভাগে পড়েন। ফেনী জেলা জামায়াতের আমির ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহিমের সঞ্চালনায় পথসভায় নাহিদ ইসলাম, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ জোটের স্থানীয় ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
আমাদের মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আয়োজিত পথসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শনিবার বিকেলে মিরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমির নুরুল কবিরের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক। তিনি বলেন, জনগণ প্রদত্ত গণভোটকে অবৈধ আখ্যায়িত করলে জনগণকেই অসম্মান করা হয়। ভালোয় ভালোয় সংস্কার করেন। গণভোট যদি অবৈধ হয়ে থাকে, আপনার সরকারও অবৈধ সরকার। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম।