এক্সপ্রেসওয়েতে লাশ

মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রির টাকা নিয়ে ফিরছিলেন ইসমাইল

রাজধানীর বনানীতে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মুখে স্কচটেপ পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পর জানা গেছে, নিহত ইসমাইল হোসেন (৫০) জমি বিক্রি করতে গ্রামের বাড়ি জামালপুর গিয়েছিলেন। সেই টাকা সঙ্গে নিয়ে বাসে করে গাজীপুরে আসছিলেন তিনি। পথিমধ্যে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। সঙ্গে থাকা টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায় ঘাতকরা।

গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে স্বজনেরা ইসমাইলের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় তারা এই তথ্য জানান। এর আগে, গত শুক্রবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত হয়।

এদিকে ইসমাইল হোসেনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ঢাকা-জামালপুর রুটের বাবুল পরিবহনের চালক সোহেল রানাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া ওই পরিবহনের একটি বাসও জব্দ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর মহাখালী এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহতের ছেলে মো. হাসান বলেন, তাদের বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামে।

বর্তমানে তারা গাজীপুরের কাশিমপুরের করলাপাড়া এলাকায় থাকেন। তার বাবা ইসমাইল হোসেন আগে একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রায় ৯ মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন। তার ছোট বোন শারমিনের বিয়ে ঠিক হয়েছে। এ ছাড়া তাদের পরিবারের অনেক ঋণ ছিল। এসব কারণে প্রায় চার মাস আগে তাদের গাজীপুরে রেখে একা গ্রামের বাড়িতে যান তার বাবা। পরে বসতভিটার ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। সেই টাকা থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেন এবং বাড়িতে ঘর নির্মাণ করেন। বাকি ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় রওনা দেন। তখন বাবা জানিয়েছিলেন, রাত ৩টার বাসে জামালপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেই অনুযায়ী শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাবাকে নিতে আশুলিয়ার জিরানী বাসস্ট্যান্ডে যাই। সেখানে গিয়ে বাবাকে ফোন করলে মোবাইল বন্ধ পাওয়ায় বাসায় ফিরে আসি। এরপর দুপুরে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি, বাবার মরদেহ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর পাওয়া গেছে। তাদের ধারণা, পথে কোনো ছিনতাইকারী বা চক্র টাকার বিষয়টি জানতে পেরে ইসমাইলকে অপহরণ করে। পরে হত্যা করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মরদেহ গোপন করার জন্য এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রেখে যায়।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইসমাইলকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। পরে কোনো একটি গাড়ি থেকে তার মরদেহ এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে দেওয়া হতে পারে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে এক্সপ্রেসওয়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।