৭৪% ফাঁসিই হাইকোর্টে টেকে না

ফেনীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় মোট ১৬ আসামিকে প্রাণদণ্ড দিয়েছিলেন জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ। তবে সাত বছর পর গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট মাত্র দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করে। ২০১৯ সালে বিচারিক আদালতে যারা ফাঁসির দণ্ড পেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে চারজনের সাজা কমে হয়েছে যাবজ্জীবন, আর বাকি ১০ জন পেয়েছেন খালাস। হাইকোর্টের এই রায় নতুন করে সামনে এনেছে গুরুতর একটি প্রশ্ন। দেশে চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন মামলায় বিচারিক আদালতে ‘গণহারে’ ফাঁসি দেওয়ার প্রবণতার পেছনে দায় কার?

নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার সময় হাইকোর্টও বিষয়টি আমলে নিয়েছে। উচ্চ আদালত বলেছে, রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারক মামুনুর রশিদ তার বিচারিক মানসিকতা ও বিচারিক বিবেচনাবোধ প্রয়োগ করেননি। এ কারণে তাকে ফৌজদারি মামলা পরিচালনা থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা নিতে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশও দিয়েছে হাইকোর্ট। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার এ বিচারিক কর্মকর্তা সবশেষ নিম্নতম মজুরি বোর্ডে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি এই প্রতিষ্ঠানে প্রেষণে যোগ দেন।

তবে উচ্চ আদালতের রায়ের পরেও বিচারিক আদালতে একই সঙ্গে অনেক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রবণতায় খুব একটা ভাটা পড়েনি। ঢাকা, জামালপুর, ভোলা ও ময়মনসিংহে গত মঙ্গলবার একদিনে হত্যা ও ধর্ষণের চারটি মামলায় ১০ জন আসামির প্রাণদণ্ড হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আসামিদের যথাযথ শাস্তি হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি আবার ঢালাও ফাঁসি দেওয়ার প্রবণতা আইনের শাসনের পরিপন্থী।

পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিচারিক আদালতে অনেক মামলায় ঢালাও ফাঁসির রায় দেওয়া হলেও উচ্চ আদালতে সেগুলোর বেশিরভাগই টিকছে না। নমুনা বিশ্লেষণের জন্য দেশ রূপান্তর বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে গত মধ্য জুন থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হওয়া ২০টি ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আসামিদের আপিল ও জেল আপিল মামলার রায় পর্যালোচনা করেছে। দেখা গেছে এসব মামলায় গত কয়েক বছরে বিচারিক আদালত ৪৯ জনের ফাঁসির রায় দিয়েছিল। তবে হাইকোর্টের রায়ে মাত্র ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রয়েছে। অর্থাৎ বিচারিক আদালতের প্রায় ৭৪ শতাংশ ফাঁসির আদেশ রহিত হয়েছে হাইকোর্টে।

এই ২০টি মামলার প্রায় সবই ছিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে। এর মধ্যে ১০টি স্ত্রী হত্যা মামলা, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলা চারটি, নারী হত্যা একটি, ধর্ষণের একটি, অপহরণের একটি, দলবদ্ধ ধর্ষণের একটি, দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার একটি এবং ডাকাতিসহ হত্যার ঘটনায় একটি মামলা রয়েছে। বিচারিক আদালতে ৪৯ জনের ফাঁসির রায়ের মধ্যে হাইকোর্টের রায়ে ৩৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা রহিত হয়েছে। এই ৩৬ জনের মধ্যে যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে ১৮ জনের। খালাস পেয়েছেন ১৭ জন। একজন আসামির আট বছর কারাবাসকে সাজা হিসেবে গণ্য করে তাকে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৩ জনের মধ্যে এক আসামি ছিলেন শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্ত। তবে সাজা বহাল থাকার পর জানা যায় তিনি কয়েক বছর আগেই মারা গেছেন। পরে তার রায়টি বাতিল করে হাইকোর্ট।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা, একজন ফৌজদারি আইন বিশ্লেষক, একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, বর্তমানে কর্মরত ও অবসরে যাওয়া দুজন জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ, হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের রাষ্ট্রপক্ষের দুজন আইনজীবীর অভিমত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিচারিক আদালতের কিছু বিচারকের মধ্যে ব্যাপকহারে প্রাণদণ্ড দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। বিভিন্ন ধরনের জনচাপও এই প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখছে। তবে বিচারিক আদালত যে দণ্ডই দিক না কেন, মামলাগুলো হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে যাওয়ার পর গভীর পর্যবেক্ষণ, নথি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে তদন্তে দুর্বলতা, সাক্ষীদের বক্তব্যে অসঙ্গতি, আসামির বয়স ও অসুস্থতা, আসামিদের দীর্ঘদিন কনডেমড সেলে রাখা, নারী আসামি, উচ্চ আদালতের পূর্ববর্তী নজির, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কি না সেসব বিবেচনায় নেয় উচ্চ আদালত।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল মনে করেন, বিচারিক আদালতে যেভাবে সাজা হয়, তার বিপরীতে উচ্চ আদালতে বিচারিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আমলে নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে অনেক নজিরভিত্তিক পর্যালোচনাও হয়। উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এসব বিষয় প্রাধান্য পায়। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেকোনো ফৌজদারি মামলায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে কয়েকটি আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সেক্ষেত্রে উচ্চ আদালত বিচারিক আদালতের রায়ের বিষয়ে আরও গভীর বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে থাকে। এ কারণেই হয়তো রায়ের ক্ষেত্রে বৈপরীত্য দেখা যায়। তবে কোনো মামলায় বিচারিক ও উচ্চ আদালতের রায়ের মধ্যে ব্যাপক বৈপরীত্য থাকা উচিত নয়।’

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অপরাধীর সাজা নিশ্চিত না হলে সমাজ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। আবার ঢালাওভাবে সাজা দেওয়াও একধরনের সেকেলে মানসিকতা। বিচারের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত যে, যার যতটুকু অপরাধ বা নৃশংসতা তাকে ততটুকুই সাজা দিতে হবে। আর সাজা দিলে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। তাতে বিচারে একটা ভারসাম্য আসবে।’

পৃথিবীজুড়ে মৃত্যুদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ শাস্তি (ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট) নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর ১১৪টি দেশ মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর সাজার আইন পুরোপুরি বাতিল করেছে। এ ছাড়া বেশকিছু দেশে এ আইন থাকলেও তারা সাজা দেয় না। কোনো কোনো দেশে গুরুতর অপরাধ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় না। বিপরীতে বাংলাদেশ, চীন, ইরান, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও ইয়েমেনসহ বেশকিছু দেশে প্রাণদণ্ডাদেশ বেশি হয়। এসব দেশে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা শিরেদ, প্রাণঘাতী ইনজেকশন, গুলি, নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বাংলাদেশে বিশেষ ধরনের রশি (ম্যানিলা রোপ) গলায় ঝুলিয়ে দণ্ড কার্যকর করা হয়।

দেশের একটি বড় জেলায় কর্মরত জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ পযমর্যাদার একজন বিচারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিচারকের কাছে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। তবে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও পরিস্থিতি এমন যে, বিচারকদের সামনে প্রথমে বিবেচনায় আসে ফাঁসি; তারপর যাবজ্জীবন বা অন্য মেয়াদের সাজা। অথচ পৃথিবীর অনেক দেশেই প্রথমে অন্য মেয়াদের সাজার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়।’ ওই বিচারক বলেন, ‘উচ্চ আদালত যখন ফাঁসি কমিয়ে অন্য মেয়াদের সাজা দেয়, তখন কিন্তু বলে না নিম্ন আদালতের ফাঁসির রায় ঠিক হয়নি। আসামি হাইকোর্টে খালাস পেলেই কেবল তদন্ত ও নিম্ন আদালতের ত্রুটির বিষয়টি উঠে আসে।’

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইমাম হোসেন তারেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যৌতুক চেয়ে স্ত্রী হত্যা মামলায় দেখা গেছে, ঘটনা ঘটার দাবি করা হলেও যৌতুক চেয়েছে কি না, কখন, কোথায়, কীভাবে চেয়েছে, সেটি অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর হত্যার মতো ঘটনা যেহেতু ঘটেছে, তাই হাইকোর্টকে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হয়। সেক্ষেত্রে অনেকের ফাঁসির সাজা কমে যাবজ্জীবন সাজা হয়ে যায়।’

১৬ বছরে ৩,৮৭৬ ফাঁসির আদেশ : মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ বছরে দেশের বিচারিক আদালতে ৩ হাজার ৮৭৬ আসামির প্রাণদণ্ডের রায় হয়েছে। একই সময়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ৪৭ জন ফাঁসির আদেশ কার্যকর হয়, যা শতাংশের হিসাবে মাত্র ১.২১। ১৬ বছরের প্রতি বছর কার্যকর হয়েছে গড়ে ০.০৭ শতাংশ ফাঁসির আদেশ।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০১০ সালে বিচারিক আদালতে ৭৬ জনের ফাঁসির রায় হয়। ওই বছর কার্যকর হয় ৯ জনের সাজা। ২০১১ সালে ৯৭ আসামির বিপরীতে চারজনের সাজা কার্যকর হয়। ২০১২ সালে ৭৭ জনের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় হয়। ওই বছর কার্যকর হয় এক আসামি সাজা। ২০১৩ সালে ২৯১ জন আসামির ফাঁসির রায় হয়। সে বছর কার্যকর হয় দুজনের সাজা। ২০১৪ সালে ১৭৬ জনের ফাঁসির রায় হয়। ২০১৫ সালে হয় ১৭৩ জনের ফাঁসির রায়। সে বছর কার্যকর হয় তিন আসামির সাজা। ২০১৬ সালে ২৪১ আসামির ফাঁসির রায় হয়, কার্যকর হয় সাতজনের। ২০১৭ সালে ৩০৩ জন আসামির সর্বোচ্চ সাজার রায় হয়। ওই বছর কার্যকর হয় তিনজনের। ২০১৮ সালে ৩১৯ জনের ফাঁসির রায় হয়। ২০১৯ সালের ৩২৭ জন আসামির ফাঁসির রায় হয়, কার্যকর হয় দুজনের। ২০২০ সালে ফাঁসির রায় হয় ২১৮ জনের, কার্যকর হয় দুজনের। ২০২১ সালে ৩২০ জনের ফাঁসির রায় হয়, কার্যকর হয় পাঁচজন আসামির সাজা। ২০২২ সালে ৩৩৮ জনের ফাঁসির রায় হয়, কার্যকর হয় চারজনের। ২০২৩ সালে ১৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৯০ জনের প্রাণদণ্ডাদেশ হয়। তবে ওই বছর কার্যকর হয় পাঁচজনের সাজা। ২০২৪ সালে ফাঁসির রায় হয় ৩০৭ জনের বিরুদ্ধে। ২০২৫ সালে ২২৩ জনের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় হয়। পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কোনো ফাঁসি কার্যকর হয়নি। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্তও কোনো ফাঁসির আসামির সাজা কার্যকর হয়নি।

বিচারিক আদালত কাউকে ফাঁসির আদেশ দিলে কারাবিধি অনুযায়ী তাকে রাখা হয় কারাগারের বিশেষ সেলে (কনডেমড সেল)। কয়েক ফুট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের এই সেলগুলোকে অনেকেই বলেন, ‘মৃত্যু সেল’। অন্যদিকে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে লেগে যায় বছরের পর বছর। ফলে কনডেমড সেল নামে কারাগারের  ভেতর আরেক ‘কারাগার’-এ আসামিকে থাকতে হয় মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত। কেউ কেউ উচ্চ আদালতে খালাস পেলেও তার আগে এক বিভীষিকাময় পরিবেশে দিন কাটাতে হয়। এতে করে অনেকের মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে, কেউ কেউ হারিয়েছেন দৃষ্টিশক্তি।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট জেডআই খান পান্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে সাজা উচ্চ আদালতে টেকে না, কার্যকর হয় না, সেই সাজা দিয়ে প্রতিনিয়ত কাউকে মৃত্যুযন্ত্রণা দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’ তিনি বলেন, ‘দেশে শত শত ফাঁসির রায় হচ্ছে। তাতে কি অপরাধ প্রবণতা কমছে? পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশ যেখানে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ভিন্ন চিন্তাভাবনা করছে, সেখানে আমরা এখনো ঔপনিবেশিক চিন্তাভাবনার মধ্যে পড়ে আছি। শুধু ফাঁসির সাজা দেওয়া নয়, অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনার ওপর আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।’

অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ শাহজাহান সাজু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মানুষ দিয়েই তো মানুষের বিচার করতে হবে। আর মানুষ দিয়ে যখন বিচার হবে, সে ক্ষেত্রে ভুল হতে পারে বলেই সাক্ষী, নথি ও প্রমাণের বিধানগুলো রাখা হয়েছে। আর বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলেই তা সরাসরি কার্যকর হবে না, হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের অনুমোদন পেতে হবে।’ মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে বিচারকদের আরও সুনির্দিষ্ট জ্ঞান তৈরির জন্য উচ্চ আদালতের বিচারক, সুপ্রিম কোর্টের প্রথিতযশা ফৌজদারি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করার পক্ষে তিনি মত দেন।