ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ভরাডুবি এবং পিসিবির বড় রদবদলের পর বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক গতি তারকা শোয়েব আখতার। জানালেন পাকিস্তান ক্রিকেট এখন অবস্থান এখন আছে ভেন্টিলেটরে! অবশ্য কথাটি তার নিজ মুখের ভাষ্য নয়, বাবর-রিজওয়ানদের ক্রিকেটের সাম্প্রতিক অবস্থা দেখে দেশটির ক্রিকেটে বোর্ড পিসিবির এক কর্মকর্তাই দিয়েছেন এমন তকমা।
পিসিবির সেই কর্মকর্তা শোয়েবকে এও জানিয়েছেন, দলকে পুরোপুরি পুনরুজ্জীবিত করতে দুই বছর সময় লাগবে। সম্প্রতি ‘আউটসাইড এজ’ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের দলের এই মুহূর্তের অবস্থান নিয়ে আলাপকাপে এসব জানান পাকিস্তানের সাবেক এই তারকা পেসার।
ইংল্যান্ড সফরে হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রান এবং লর্ডসে ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পাকিস্তান দল। এই চরম ব্যর্থতার জেরে পিসিবির অন্দরে বড় ধরনের তোলপাড় শুরু হয়। প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান সরফরাজ আহমেদ, আর সহকারী কোচের দায়িত্ব ছাড়েন উমর গুল।
এরপরই সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং সহকারী কোচ হিসেবে যোগ দেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার অ্যাশলে নফকে। এমনকি মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক ও সালমান আলী আগাসহ সাতজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দিয়ে আমূল পরিবর্তনের পথে হেঁটেছে বোর্ড।
পিসিবির এমন কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে শোয়েব বলেন, ‘বোর্ড নিজেই বর্তমান দলটির পারফরম্যান্সে চরমভাবে হতাশ এবং তাদের কাছ থেকে বাড়তি আর কিছু আশা করছে না। বর্তমান স্কোয়াডকে সরিয়ে নতুন ও তরুণ রক্ত আনাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য। যেসব খেলোয়াড় কেবল দেশের হয়ে খেলার ক্ষুধা নিয়ে মাঠে নামবে, তাদের নিয়েই ভবিষ্যৎ গড়ার সঠিক পথেই হাঁটছে বোর্ড।’ এমনটাই তাকে পিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন শোয়েব।
দলের এই পরিবর্তনের হাওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই ট্রানজিশনের সময় আমি শুধু চাই শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ এবং হারিস রউফের ক্যারিয়ার যেন সুরক্ষিত থাকে। এই ছেলেদের অনেক ক্রিকেট বাকি আছে। বড় মঞ্চের জন্য এখন আমরা যে নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করছি, তাদের নিয়েই আমাদের আসল প্রত্যাশা।’
লাহোরে দ্বিতীয় টেস্টের সময় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাবেক এই গতি তারকা জানান, ‘আমি লাহোরে এনসিএতে গিয়ে দেখে এসেছি। দীর্ঘ ২৬ বছর পর এখন গিয়ে একাডেমিতে কিছু কাজ শুরু হয়েছে।’
পাকিস্তান দল বর্তমানে পুরোপুরি ছন্নছাড়া অবস্থায় রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বেশ ক্ষুব্ধ ও সরাসরি কণ্ঠে শোয়েব বলেন, ‘এতে অবাক হওয়ার কী আছে? আপনারা কি এটা আশা করেননি?’এছাড়া দল কেন ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়তে পারল না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘আমাদের মধ্যে মাঠে লড়াই করার সেই জেদ বা মানসিকতাই ছিল না।’