এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে মা-ছেলেসহ ৩ জনকে খুন: পুলিশ

বাগেরহাটের কচুয়ায় চাঞ্চল্যকর একই পরিবারের দুই নারীসহ তিনজনকে হত্যার রহস্য এক মাস পর উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী ও পরস্পর আত্মীয় তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন। গ্রেপ্তাররা হলেন- কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৪০), আসাদুল শেখ (৪১) এবং মো. আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু (৩৮)।

পুলিশ জানায়, নিহত আহাদ আলীর পরিবারের এক নারী সদস্যের সঙ্গে মূল অভিযুক্ত জাহিদের পরকীয়া প্রেম ছিল। এ নিয়ে আহাদের মা মনিরা বেগমের সঙ্গে জাহিদের তর্কবিতর্ক হয়। পরবর্তীকালে জাহিদের স্ত্রীর কাছে তাদের মোবাইল বার্তার বিষয়টি জানাজানি হলে পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছায়। পরকীয়াকে কেন্দ্র করে নিজের সংসারের কলহ এবং আহতদের পরিবারের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্কের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে জাহিদ এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। এতে সহায়তা করে তার চাচাতো ভাই আসাদুল ও বাবু।

গত ২ আগস্ট রাতে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ঘরে প্রবেশ করে। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, জাহিদ প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে আহাদকে হত্যা করে। এরপর মা মনিরা বেগম ও নানী রাশিদা বেগমকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। বাবু ও আসাদুল এই কাজে জাহিদকে সরাসরি সহযোগিতা করে। পরদিন তারা বাড়িটি থেকে চারটির মতো মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।

গত ৪ আগস্ট মৃতের নিজ ঘর থেকে মনিরা বেগম মনি (৬০), তার ছেলে আহাদ আলী হাওলাদার (২৫) এবং শাশুড়ি রাশিদা বেগমের (৯৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন নিহত মনিরার বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

তদন্তের শুরুতে জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হলেও সে সত্য গোপন করে। তাকে আদালতে পাঠিয়ে পুলিশ নিবিড় তদন্ত ও প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে নিহত মনিরার ব্যবহূত মোবাইল ফোন সক্রিয় দেখে তদন্তের গতি ঘনীভূত হয়। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কচুয়ায় অভিযান চালিয়ে বাবুর বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীকালে আসাদুলের বাড়ি থেকে নিহত আহাদের ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধারসহ তাকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয় মোট চারটি মোবাইল ও একটি চার্জার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।