ফিফা টুর্নামেন্টের স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে তীব্র সংকট তৈরি হওয়া সত্ত্বেও পুনরায় সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
ফিফা টুর্নামেন্টের অংশীদারিত্ব বিক্রির একটি প্রস্তাব বাতিল হওয়ার পর ইনফান্তিনোর ওপর পদত্যাগের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা উয়েফা বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ফিফার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ২০১৬ সাল থেকে ফিফা সভাপতির দায়িত্বে থাকা ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নিয়ে এ কারণেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
তবে বিতর্কের মুখেও ফিফার অবস্থান স্পষ্ট। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, "ফিফা সভাপতি গত এপ্রিলেই ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি ২০২৭ সালের নির্বাচনে পুনরায় প্রার্থী হবেন। অবশ্যই সেই সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হয়নি। জনাব ইনফান্তিনো পুনর্নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।"
সংকট ঘনীভূত হওয়ার পর এই প্রথম ফিফার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদে বহাল থাকার ও নির্বাচনে লড়ার কথা নিশ্চিত করা হলো। ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে আগামী ১৮ নভেম্বর মনোনয়ন জমার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো কোনো প্রার্থীর নাম সামনে আসেনি।
বিকল্প প্রার্থীর সন্ধানে উয়েফা
বিশ্বমানের টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিকীকরণ রুখতে উয়েফা জানিয়েছে, আগামী বছর মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে নির্বাচন করার জন্য তারা অন্য আঞ্চলিক ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একজন যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দাঁড় করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
সম্প্রতি পোল্যান্ডে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে স্বাগতিক পোল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে উপস্থিত হন ইনফান্তিনো। পোলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির পাশে বসে খেলা দেখলেও, নিজের ভবিষ্যত বা পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, "অনেক কিছুই বলার আছে, তবে তা বলার জন্য একটি সঠিক সময় ও স্থান প্রয়োজন। আজকের দিনটি বা এই জায়গাটি তার জন্য নয়; আজ আমরা কেবল ফুটবল উপভোগ করতে এসেছি।"
তিনি আরও যোগ করেন, "বিশ্বের প্রতিটি কোণায় ফুটবলের সুযোগ তৈরি করা, মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ দেওয়া এবং ফুটবলকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা ফিফাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।"
বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি চ্যালেঞ্জ
প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি বাতিল হলেও উয়েফা ফিফার ওপর থেকে আইনি ও নৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে। তবে ফিফা নিশ্চিত করেছে যে চুক্তির সেই পরিকল্পনাটি স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তা পুনরায় কার্যকর করা হবে না।
এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনোর বিপক্ষে লড়াই করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম জমা পড়েনি। আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সভাপতি পদের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।