লা লিগায় নিজেদের থামানো প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলে ভ্যালেন্সিয়ার মাঠ মেস্তায়ায় স্বাগতিকদের ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ক্যাটালানরা। এই জয়ে ৪ ম্যাচে ১৭ গোল করে এবং পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান শক্ত করল বার্সেলোনা।
৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস উত্তাপের মধ্যে ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই বার্সেলোনাকে এগিয়ে নেন তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল। ফার্মিন লোপেসের বাড়ানো চিপ পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের জাদুতে প্রথম গোলটি করেন তিনি। ম্যাচের ২২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফির্মিন লোপেজ নিজেই। এর আগে ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের ওপর ক্ষুব্ধ ভ্যালেন্সিয়া সমর্থকদের গ্যালারিতে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। স্বাগতিকদের রক্ষণভাগ ভেঙে প্রথমার্ধে বারবার আক্রমণে ওঠে বার্সা। ভ্যালেন্সিয়ার গোলরক্ষক দিমিত্রিভস্কি বেশ কয়েকটি দারুণ সেভ না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫ মিনিটে ফির্মিনের বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকে ৩-০ করেন বার্সার ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনহা। তিন গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ভ্যালেন্সিয়া কোচ তিনজনকে পরিবর্তন করেও খেলার মোড় ঘোরাতে পারেননি। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ব্যবধান ৪-০ করেন পেদ্রি। এরপর ৮৪তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোলটি করে ভ্যালেন্সিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ইয়ামাল।
রেকর্ড ও পরিসংখ্যান:
- পরিসংখ্যান: ম্যাচে বার্সেলোনার বল পজিশন ছিল ৭৪%, যেখানে ভ্যালেন্সিয়া পেয়েছে মাত্র ২৭%। বার্সেলোনা মোট ২৫টি শট নেয়, যার মধ্যে ১০টি ছিল লক্ষ্যভেদী।
- ফির্মিনের কীর্তি: ১টি গোল ও চমৎকার অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের সেরা পারফর্মারদের একজন ছিলেন ফার্মিন লোপেস। ম্যাচ জুড়ে তাঁর পারফরম্যান্স বার্সার আক্রমণে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
- দলের শক্তিমত্তা: ম্যানচেস্টার সিটি থেকে আসা রদ্রির এটিই ছিল একাদশে প্রথম ম্যাচ। পেদ্রির সঙ্গে মাঝমাঠে তাঁর পার্টনারশিপ ছিল বেশ শক্ত। গ্যাব্রিয়েল জেসুসও বদলি হিসেবে নেমে নিজের অভিষেক পর্ব শেষ করেছেন।
প্রথম চার ম্যাচেই ১৭ গোল করার এই রেকর্ড স্প্যানিশ ফুটবলে ফ্লিকের বার্সেলোনাকে এক অনবদ্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আগামী চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচের আগে দলের এমন পারফরম্যান্স বার্সা সমর্থকদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।