শোক পালনের নিয়ম

আপনজন হারানোর বেদনা মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। এই কঠিন মুহূর্তেও ইসলামের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সান্ত্বনার বাণী মুমিনদের আলোর পথ দেখায়। আপনজন মারা গেলে উচ্চ আওয়াজে কান্নাকাটি ও আহাজারি করা যাবে না। তিন দিন পর্যন্ত শোক পালন করা যাবে। এর বেশি নয়। তবে হ্যাঁ, স্বামী মারা গেলে স্ত্রী চার মাস ১০ দিন অথবা গর্ভস্থিত সন্তান (যদি থাকে) প্রসব হওয়া পর্যন্ত শোক পালন করবেন। এ সময় যারা ধৈর্যধারণ করবেন মহান আল্লাহ তাদের উত্তম বিনিময় দান করবেন।

হজরত ফাতেমা (রা.) পিতার শোকে কান্না করেছিলেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবীজি (সা.)-এর রোগ প্রকট রূপ ধারণ করে তখন তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় ফাতেমা (রা.) বললেন, উফ! আমার পিতার ওপর কত কষ্ট! তখন নবীজি (সা.) তাকে বললেন, আজকের পর তোমার পিতার ওপর আর কোনো কষ্ট নেই। যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন তখন ফাতেমা (রা.) বললেন, হায়! আমার পিতা! রবের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। হায়! আমার পিতা! জান্নাতুল ফেরদাউসে তার বাসস্থান। হায়! আমার পিতা! জিবরাঈল (আ.)-কে তার ইন্তেকালের খবর শুনাই। যখন নবীজি (সা.)-কে সমাহিত করা হলো, তখন ফাতেমা (রা.) বললেন, হে আনাস! রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে মাটি চাপা দিয়ে আসা তোমরা কীভাবে বরদাশত করলে? (সহিহ বুখারি)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রা.) আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত জাফরের পরিবারকে শোক প্রকাশে তিন দিনের অবকাশ দিয়ে বলেছিলেন, তিনি তাদের কাছে আসবেন। এরপর (তিন দিন পর) তাদের কাছে এসে বললেন, ‘আজকের দিনের পর তোমরা আমার ভাইয়ের জন্য আর কেঁদো না।’

শোকের সময় ধৈর্যধারণ করা সর্বোত্তম আমল। তাই ধৈর্যধারণ করে শোক প্রকাশে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ তথা ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তারই সান্নিধ্যে ফিরে যাব’, এই বলে আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি যার কোনো প্রিয়জনকে উঠিয়ে নিই, আর সে ধৈর্যধারণ করে এবং নেকির আশা রাখে আমি তাকে জান্নাত দিয়েই সন্তুষ্ট হব।’ (তিরমিজি)