মৃতদের কাছে সওয়াব পৌঁছানোর উপায়

মৃত্যুর মাধ্যমে আমলের সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়। তবে আপনজন ইচ্ছা করলে মৃতের জন্য বেশ কিছু উপায়ে সওয়াব পৌঁছাতে পারে। সেগুলো একদিকে যেমন মৃতের উপকারে আসে, তেমনি জীবিতদের হৃদয়কেও শান্ত করে এবং শোককে রূপ দেয় ইবাদতে।

মৃত ব্যক্তির ভালো কাজের আলোচনা করা: রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের মৃতদের ভালো কাজগুলোর আলোচনা করো এবং মন্দ কাজের আলোচনা থেকে বিরত থাকো।’ (আবু দাউদ)

মাগফিরাতের দোয়া করা : মৃতদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করলে তারা উপকৃত হয়। কোরআনে ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া বর্ণিত হয়েছে, ‘হে আমার প্রতিপালক! যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে সেদিন আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সব ইমানদারকে ক্ষমা করুন।’ (সুরা ইবরাহিম ৪১)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন মানুষ মারা যায় তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে শুধু তিনটি আমলের উপকার ভোগ করতে পারে। এক. সদকায়ে জারিয়া। দুই. এমন জ্ঞান যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। তিন. এমন সুসন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম)

মৃতদের সওয়াবের উদ্দেশে দান-সদকা করা : আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, সাদ ইবনে উবাদা (রা.)-এর অনুপস্থিতিতে তার মা ইন্তেকাল করেন। তিনি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আমার অনুপস্থিতিতে আমার মা মারা গেছেন। আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদকা করি, তবে কি তার কোনো উপকারে আসবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। সাদ (রা.) বলেন, ‘আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমার ‘মিখরাফ’ নামক বাগানটি আমার মায়ের জন্য সদকা করে দিলাম।’ (সহিহ বুখারি)

ছুটে যাওয়া নামাজ-রোজার ফিদিয়া আদায় করা : মা-বাবার ছুটে যাওয়া নামাজ-রোজার জন্য প্রতি ওয়াক্ত নামাজ বা প্রতি রোজার পরিবর্তে এক মুদ বা (বর্তমান বাজার অনুযায়ী) পৌনে দুই কেজি পরিমাণ গম সদকা করা। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক)

নফল নামাজ-রোজা আদায় করা : সন্তান মৃত মা-বাবার জন্য নফল নামাজ আদায়ের মাধ্যমে সওয়াব পৌঁছাতে পারবে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! জীবদ্দশায় আমি আমার মা-বাবার অনুগত ছিলাম। তাদের মৃত্যুর পর আমি কীভাবে তাদের আনুগত্য করব? উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, মৃত্যুর পর তাদের আনুগত্য হলো, তুমি নামাজ পড়ার সময় তাদের সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে নামাজ পড়বে এবং তুমি রোজা রাখার সময় তাদের সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে রোজা রাখবে।’ (আওজাজুল মাসালিক ইলা মুয়াত্তা মালিক)

হজ, ওমরাহ ও কোরবানির মাধ্যমে সওয়াব পৌঁছানো : মৃত মা-বাবার পক্ষ থেকে হজ, ওমরাহ, কোরবানি করেও সওয়াব পৌঁছানো যায়। (সহিহ মুসলিম)

কবর জিয়ারত করা : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি এর আগে তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। তবে এখন থেকে অনুমতি দিলাম। তোমরা কবর জিয়ারত করো। কেননা তা তোমাদের দুনিয়াবিমুখ করে এবং পরকালকে স্মরণ করিয়ে দেয়।’ (ইবনে মাজাহ)