মায়ামিতে মেসির শিরোনাম কাড়লেন এমবোলো

ফ্লোরিডার ক্লাবটিতে লিওনেল মেসি যেমন পারফর্মই করুক সেখানে আলাদা করে শিরোনাম করার যেন কিছুই থাকে না, তিনি নিজেই যেন সেটির রূপক। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়ের পর প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে ফেরার রাতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার যখন সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইন্টার মায়ামি, তখন তো মেসিকে নিয়ে বাড়তি আয়োজন করেই চলছিল শিরোনামের প্রস্তুতি।

তবে সেই ম্যাচে সমস্ত আলো কেড়ে নিলেন সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলো। আটলান্টা ইউনাইটেডের হয়ে অভিষেকেই শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি গোল থেকে মেসিদের জয়বঞ্চিত করে দলকে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দিলেন তিনি। তবে তার শিরোনামে আসাটা কেবল এই গোলের কারণে না, সবশেষ উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিতর্কিত লাল কার্ড দেখার স্মৃতি পেছনে ফেলে মায়ামির বিপক্ষে যেন মধুর এক প্রতিশোধ নিলেন এই ফরোয়ার্ড।

ফরাসি ক্লাব রেনেস থেকে ১৮ মিলিয়ন ডলারে আটলান্টায় নাম লেখানোর পর নিজের প্রথম ম্যাচেই লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো ডি পলের মতো আর্জেন্টাইন তারকাদের মুখোমুখি হন এমবোলো। ম্যাচের ৮৬ মিনিট পর্যন্তও ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল মায়ামি। ঠিক তখনই ম্যাচের নাটকীয় মোড় পরিবর্তন করেন এমবোলো। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে নিখুঁত স্পট কিকে মায়ামির গোলরক্ষককে পরাস্ত করে আটলান্টাকে ২-২ সমতায় ফেরান এই সুইস স্ট্রাইকার।

এর আগে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের পাঁচ দিন পর মাঠে নেমে শুরু থেকেই খেলা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন মায়ামি অধিনায়ক মেসি। প্রথমার্ধের ৩২ মিনিটে তার অসাধারণ ও নিখুঁত এক কর্নার কিক থেকেই হেডে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার কাসেমিরো। এই দুর্দান্ত অ্যাসিস্টের সুবাদে মেজর লিগ সকারে মেসির ব্যক্তিগত গোল অবদানের সংখ্যা উন্নীত হয় ৩০-এ। যদিও ডিফেন্সের দুর্বলতার কারণে সেই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। মিগুয়েল আলমিরন গোল করে আটলান্টাকে সমতায় ফেরানোর পর লুইস সুয়ারেজের জাদুকরী ফিনিশিংয়ে প্রথমার্ধের ঠিক আগে আবারও এগিয়ে গিয়েছিল লস গারজাসরা।

ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার দারুণ কিছু সুযোগ তৈরি করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন মেসি। অতিরিক্ত সময়ে তার নেওয়া নিচু শট গোলরক্ষক রুখে দেওয়ার পর ফিরতি বল পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। এমনকি কর্নার থেকে সরাসরি ‘অলিম্পিক গোল’ করার জোর প্রচেষ্টা চালালেও তা গোলরক্ষক ও গোলপোস্টের বাধায় ব্যর্থ হয়। মন্ট্রিয়েলের বিপক্ষে ৭-১ ব্যবধানে বিশাল জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা মায়ামিকে শেষ পর্যন্ত শেষ মুহূর্তের এই গোল হজম করে পয়েন্ট ভাগাভাগির হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের পাট চুকিয়ে ক্লাব ফুটবলে ফেরা মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্স ও অ্যাসিস্টের রাতটি শেষ পর্যন্ত এমবোলোর ক্ষুরধার নৈপুণ্যেই রূপ নেয় ড্রয়ের হতাশায়।