সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এসবির ঢাকার মালিবাগ কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তার ছোট ছেলেকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। এই ঘটনার মূল হোতা প্রাইভেটকার চালক ও মালিক জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চত করে জানান, পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে রবিবার ভোরে আমিনবাজার এলাকা থেকে জহিরুলকে গ্রেপ্তার করেছে। জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে আমিনবাজারে বরদেশি মদিনা হাউজিং এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এসবির এসআই আলতাফ হোসেন (৫৮) ও তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে (২৬) পিটিয়ে গুরুতর আহত করে প্রাইভেটকারচালক জহিরুল ও তার সহযোগীরা। পরে স্থানীয়রা তাদের রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত আলতাফের স্ত্রী শিউলি বেগম রবিবার সকালে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানা মামলা দায়ের করেছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, মদিনা হাউজিং এলাকায় আলতাফের দুই ছেলের একটি ছোট পোশাক কারখানা আছে। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে তাদের কারখানাসংলগ্ন একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখেন আলতাফ। একটি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সাইড দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। আলতাফ সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা লোকেরা ওই গ্যারেজ মালিককে মারধর করছেন। তিনি তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাকেও মারধর করা হয়। তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে চড় মারা হয়। এতে তিনি কানে আঘাত পান এবং দৌড়ে কারখানায় ফিরে যান।
কিছুক্ষণ পর আরিফুল ও তার বাবা কারখানার বাইরে বের হন। এর মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়িটি কারখানার সামনে চলে আসে। পরিবারের ভাষ্য, গাড়িটিতে থাকা কয়েকজনসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হন। পরিস্থিতি দেখে আলতাফ ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়ে তাদের মারধর শুরু করে। আলাউদ্দিন নামের একজন প্রথমে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে বুকে লাথি মারেন। পরে পেছন থেকে কেউ ভারী কিছু দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে যান। একই সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলতাফকে মারধর করা হয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, গাড়ি পার্কিং নিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হন এসআই আলতাফ ও তার ছেলে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি। এদিকে ঘটনার ছায়া তদন্ত করছেন জানিয়ে পিবিআই ঢাকা জেলা ওসি সোলেমান গাজী বলেন, এসআই আলতাফের মৃত্যুর ঘটনাটি ঢাকা জেলা পিবিআই ছায়া তদন্তে কাজ শুরু করেছে। পরে জানাতে পারব।
নিহত আলতাফ সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় বসবাস করতেন। সেখানে তার ছেলেদের টিনশেডের একটি গেঞ্জি কারখানা আছে।