রোনালদোর মতো স্পনসর বোতল সরিয়ে নতুন বিতর্কে এমবাপ্পে

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচে ইন্তান মিলানের মুখোমুখি হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে এসেএক কাণ্ড ঘটিয়ে ক্রীড়া বিপণন ও স্পন্সরশিপের দুনিয়ায় তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। আজ মঙ্গলবার মাদ্রিদে প্রেস কনফারেন্সের টেবিলে ব্রডকাস্টারদের রাখা টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল স্পন্সর ‘গেটোরেড’ আইসোটনিক ড্রিঙ্কসের বোতলটি ফ্রেমের বাইরে সরিয়ে রেখে সাধারণ পানির বোতল সামনে তুলে ধরেন তিনি।

ঘটনাটি প্রথম দর্শনে স্বাস্থ্য সচেতনতা মনে হলেও এর মূল শিকড় লুকানো পেশাদার বাণিজ্যিক স্বার্থে। নিজের ইমেজ রাইটস ও ব্যক্তিগত স্পন্সরশিপ নিয়ে বরাবরই কঠোর এমবাপ্পে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়, জুয়া কিংবা অ্যালকোহলজাতীয় ব্র্যান্ডের প্রচারণায় নিজেকে জড়াতে নারাজ এই তারকা। ফুটবল ও বাস্কেটবল তারকাদের ওপর টুর্নামেন্ট স্পন্সরদের জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া ব্র্যান্ডিংয়ের বিরুদ্ধে এই নীরব বিপ্লবের সূচনা অবশ্য অনেক আগে।

নেপথ্যে লেব্রন জেমসের ‘ক্র্যাম্পগেট’ কেলেঙ্কারি

এমবাপ্পের এই আচরণের সূচনা হয়েছিল ১২ বছর আগে ২০১৪ সালের এনবিএ ফাইনালে। সান আন্তোনিওর তীব্র গরমে সান আন্তোনিও স্পার্স ও মিয়ামি হিটের ম্যাচে অতিরিক্ত ক্র্যাম্পে আক্রান্ত হন লেব্রন জেমস। তখন এনবিএর স্পন্সর গেটোরেড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করে লেব্রনকে নিয়ে পোস্ট করে, কারণ লেব্রন তখন কোকা-কোলার ব্র্যান্ড ‘পাওয়ারএড’-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিলেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে টুইটটি মুছে ফেলা হলেও ততক্ষণে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। এরপর থেকে প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনে এনবিএর বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও গেটোরেডের বোতলের স্টিকার বা লেবেল ছিঁড়ে ফেলার রীতি শুরু করেন লেব্রন জেমস। পরবর্তীকালে ক্লেনি থম্পসন, কাওয়াই লিওনার্ড ও স্টিফেন কারির মতো বাস্কেটবল তারকারাও এই স্পন্সর বয়কটে যোগ দেন।

রোনালদো, পগবা এবং এমবাপ্পের ধারাবাহিকতা

বাস্কেটবল কোর্ট থেকে স্পন্সর বয়কটের এই আন্দোলন ফুটবলেও ছড়িয়ে পড়ে। ২০২১ সালের ইউরো কাপে সংবাদ সম্মেলনে সামনে থাকা কোকা-কোলার দুটি বোতল সরিয়ে দিয়ে পানির বোতল তুলে ধরে রোনালদো বলেছিলেন— "পানি খান, কোকা-কোলা নয়!" সেই এক সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই পুঁজিবাজারে কোকা-কোলার শেয়ার দর কমে যায় এবং রাতারাতি প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারায় প্রতিষ্ঠানটি। একই টুর্নামেন্টে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হাইনেকেন বিয়ারের বোতল সরিয়ে দিয়েছিলেন পল পগবা।

এমবাপ্পেও এর ব্যতিক্রম নন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও ম্যান অব দ্য ম্যাচ পাওয়ার পর অফিশিয়াল স্পন্সর ‘বাডওয়াইজার’ বিয়ারের লোগো লুকিয়ে ছবি তুলেছিলেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে আজকের এই ঘটনার মাধ্যমে এমবাপ্পে আবারও প্রমাণ করলেন, আধুনিক ফুটবলে বিশাল স্পন্সর চুক্তির চেয়ে বিশ্বতারকাদের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড ও নীতি অনেক বেশি শক্তিশালী।