বাবার গোল করার ডিএনএ পেলো ছেলেও

ডাচ ফুটবল কিংবদন্তি রোনাল্ড কোম্যান ডিফেন্ডার হিসেবে খেললেও ছিলেন ফুটবলের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা গোলদাতা। ক্যারিয়ার জুড়ে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার বা সুইপার পজিশনে খেলা সত্ত্বেও ডেড-বল, দূরপাল্লার জোরালো শট ও নিখুঁত পেনাল্টির দক্ষতায় বার্সেলোনা, পিএসভি এবং ডাচ জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারে অবিশ্বাস্য ২৫৩টি ফ্রি-কিক ও পেনাল্টি গোল করেছিলেন তিনি। পেশাদার ফুটবলে কোনো ডিফেন্ডারের সর্বোচ্চ গোল করার সেই বিশ্বরেকর্ড আজও তার দখলে। পিতার সেই অসাধারণ ‘গোলস্কোরিং ডিএনএ’ নিজের করে নিলেন ছেলে কোমান জুনিয়র।

ফুটবল ইতিহাসে গোলরক্ষকদের গোল করার ঘটনা বিরল না হলেও জোড়া গোল করে ইতিহাস গড়েছেন ডাচ ক্লাব টেলস্টারের ৩১ বছর বয়সী কোমান জুনিয়র। নেদারল্যান্ডস লিগে ক্যাম্বুরের বিপক্ষে জোড়া পেনাল্টি গোল করে ১০ জনের দল টেলস্টারকে উপহার দিয়েছেন ২-২ গোলের এক অবিস্মরণীয় ড্র।
ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিক টেলস্টার। মাত্র ২০ মিনিটে ফরোয়ার্ড নকভি থোরিসন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমার্ধের পর ২-০ গোলের শক্ত লিড নিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় অতিথি দল ক্যাম্বুর।

জোড়া গোল করেন কোমান জুনিয়র

তবে ম্যাচের নাটকের তখনও বাকি ছিল। ৬৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সফল স্পট-কিক নিয়ে দলের ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন গোলরক্ষক কোমান জুনিয়র। এরপর যোগ করা সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে (৯০+১১ মিনিট) আবারও পেনাল্টি পায় টেলস্টার। এবারও প্রতিপক্ষের সব মনস্তাত্ত্বিক চাপ কাটিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান ডাচ এই গোলরক্ষক।

এরিডিভিসির ইতিহাসে প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে এক ম্যাচে জোড়া গোল করার কীর্তি গড়ে উল্লাসে মাতেন কোমান জুনিয়র। পেনাল্টি নেওয়ার আত্মবিশ্বাস সম্পর্কে তিনি বলেন, "পেনাল্টি তালিকার শীর্ষে এখন আমিই আছি। স্পট-কিকে নিজের ওপর আমার পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রয়েছে। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা আমাকে মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও আমি শান্ত ছিলাম।"
এর আগে গত মে মাসে ফোলেনডামের বিপক্ষে জয়সূচক স্পট-কিক নিয়ে টেলস্টারকে রেলিগেশন প্লে-অফ থেকে বাঁচিয়েছিলেন কোমান জুনিয়র।