সাবেক মুখ্য সচিব ও বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে ভারতের আদানি থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগসহ বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, সাবেক মুখ্য সচিব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান। এসব অভিযোগ আরও বিস্তৃত পরিসরে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এজন্য আদানি পাওয়ার লিমিটেড ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিযোগ অনুসন্ধানকালে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি প্রক্রিয়ায় আহমদ কায়কাউসের ভূমিকা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের তথ্য পাঠিয়েছে এফবিআই
এদিকে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে এফবিআই।
এ বিষয়ে দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম বলেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের অপরাধলব্ধ সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্তের বিষয়ে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ওই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এফবিআই তদন্ত করে। পরে তদন্তসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সম্পত্তির রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় নথি বাংলাদেশের কাছে পাঠানো হয়েছে। দুদকের কাছে পাঠানো এসব নথি একটি সিডিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ডিএনসিসির ওয়াকিটকি কেনায় দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ওয়াকিটকি কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই অভিযোগ পেয়ে ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট ডিএনসিসিতে অভিযান চালায় দুদক। অভিযানে পরিচালনাকারী দল ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করে। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও একটি দেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। ডিএনসিসির ক্রয় করা ওয়াকিটকির দাম অন্যান্য সরকারি সংস্থার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। প্রতিষ্ঠানটি একটি চীনা কোম্পানির সনদ ব্যবহার করেছে বলেও তথ্য মেলে। সকল তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করে দুদকের টিম। এরপরই কমিশন এ অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়।