সেই হেলেনার রিকশায় বরিশাল সিটির প্রশাসক

‘হার না মানা হেলেনা’ শিরোনামে গত ১৩ মে দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল তিন কন্যার জননী এক অসহায় নারী রিকশাচালকের জীবনসংগ্রামের কথা। সংসারের অভাব আর স্বামী ছেড়ে যাওয়ার পরও থেমে যাননি তিনি। জীবিকার তাগিদে রিকশার হ্যান্ডেল ধরে ছুটে চলেছেন বরিশাল নগরীর পথে পথে। সেই নারী রিকশাচালকের পাশে এবার দাঁড়িয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা।

গতকাল সোমবার বরিশাল সদর উপজেলা পরিষদে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে সাহসী নারী রিকশাচালকের রিকশায় চড়েন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। এ সময় সঙ্গে ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এর আগে হেলেনা বেগমের জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পেরে তাকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে ইউএনও ফরিদা সুলতানা গত ১৯ আগস্ট একটি রেইনকোট, একটি মুঠোফোন ও কিছু শুকনো খাবার তুলে দেন। হেলেনার জীবনসংগ্রাম নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের একটি গ্রুপের মাধ্যমে তার বিষয়ে জানতে পারেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা এই নারী দীর্ঘদিন ধরে একাই সংসারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। হেলেনার দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে এবং ছোট মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। জীবিকার তাগিদে তিনি কখনো মানুষের বাড়িতে কাজ, কখনো রাজমিস্ত্রির জোগালি, আবার কখনো দিনমজুরি করেছেন। শেষ পর্যন্ত রিকশার হ্যান্ডেলই হয়ে ওঠে তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। ভাড়ায় নেওয়া রিকশার জন্য প্রতিদিন ৩০০ টাকা জমা দিতে হয়। সারা দিন রাস্তায় ঘুরে আয় হয় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। রিকশার জমা, খাবার ও অন্যান্য খরচ মিটিয়ে হাতে থাকে সামান্য টাকা।

স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা পেয়ে খুশি হেলেনা। তবে সাময়িক সহায়তার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। হেলেনা জানান, তিনি ভূমিহীন। সরকারি উদ্যোগে যদি থাকার জন্য একটি ছোট ঘর এবং জীবিকার জন্য একটি রিকশা পান, তাহলে অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজের পরিশ্রমে সংসার চালাতে পারবেন। হেলেনার প্রত্যাশা, নিজের একটি রিকশা পেলে প্রতিদিনের জমার টাকা দিতে হবে না। এতে আয় থেকে কিছুটা বেশি টাকা সংসারের জন্য রাখতে পারবেন এবং মেয়েদের ভবিষ্যতের জন্যও কিছু করতে পারবেন। আর একটি ঘর পেলে ভাড়ার চাপ থেকেও মুক্তি মিলবে তার।

হেলেনার সেই সংগ্রামের গল্প এখন যেন অন্য এক বার্তা দিচ্ছে। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে হেলেনার রিকশায় চেপে ঘোরার ছবি পোস্ট করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন লিখেছেন, ‘নারীর জয়, সবার জয়’।