২ শিশুর পেট থেকে ৬ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

ছোট ছোট ইয়াবা স্কচটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে বানানো হয় ক্যাপসুল। এরপর তা পাকা কলার সাহায্যে পেটে ঢোকানো হয়। নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পর পেটে চাপ প্রয়োগ করে বা প্রাকৃতিক কাজের মাধ্যমে বের করে আনা হয়। এভাবে মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন কক্সবাজার থেকে শিশু বাহকের মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় আসছে ইয়াবা। গত শনিবার এ রকম একটি চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার এবং তার কাছ থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করে র‌্যাব। পরে শিশুদের পেট থেকে ৬ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গতকাল সোমবার বিকেলে র‌্যাবের প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাবের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, টাকার বিনিময়ে এই শিশুদের পেটে করে ইয়াবা আনা হয়। এরপর তাদের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে সংঘবদ্ধ কারবারি চক্র। গত শনিবার চট্টগ্রামের আনোয়ারার সরকারহাট এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে চক্রের মূলহোতা শারমিন আক্তার ওরফে ইসমত আরাকে গ্রেপ্তার এবং তার কাছ থেকে দুই শিশু শাহরিয়ার (১২) ও আবু বকরকে (৯) উদ্ধার করা হয়। তাদের বাড়ি বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায়। তাদের মাসিক আট হাজার টাকা বেতনের প্রলোভনে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এই ইয়াবাগুলো কৌশলে তাদের পেটে ঢোকানো হয়। দুই শিশুর পেটে করে চট্টগ্রামে পাচার করা হচ্ছিল ছয় হাজারের বেশি ইয়াবা। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে পয়োনিষ্কাশনের মাধ্যমে তাদের পেট থেকে এসব ইয়াবা বের করে আনা হয়।

র‌্যাব ৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাচ্চা দুটির পেটের ভেতর থেকে ছয় হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে। ক্যাপসুলের ভেতরে এসব ইয়াবা ছিল। একেকটি ক্যাপসুলে ৪০ থেকে ৫০টি করে ইয়াবা পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া এসব ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা। বর্তমানে শিশু দুটি সুস্থ আছে। তবে তাদের হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। ইয়াবা পাচারের জন্য একজন ব্যক্তি শিশুদের জনপ্রতি চার হাজার টাকা করে মোট আট হাজার টাকা দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামে চালান পৌঁছে দেওয়ার পর তাদের আরও টাকা দেওয়ার কথা ছিল। এর আগেও তারা দুবার পেটের ভেতরে করে ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিল বলে র‌্যাবকে জানিয়েছে।