আপত্তির মুখে সংসদীয় কমিটি থেকেও বাদ এমপি গাজী নজরুল

অনৈতিক কর্মকান্ডের দায়ে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদীয় কমিটিতে রাখা নিয়ে জাতীয় সংসদে বিতর্ক হয়েছে। পরে বিরোধী দলের আপত্তির কারণে কমিটি পুনর্গঠন করে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত এই সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে সংসদ সদস্য এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে। ১০ সদস্যের কমিটিতে বিরোধী দল থেকে মাহবুবুল আলম ও নূরুন্নিসা সিদ্দীকাকে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জিএম নজরুল ইসলামকে (গাজী নজরুল) রাখা হলেও পরে তাকে বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

সংসদে ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার জানার বিষয় হচ্ছেÑ জিএম নজরুল ইসলাম কি বিরোধীদলীয় কোটা থেকে এসেছেন?’ জবাবে চিফ হুইপ বলেন, তাকে বিরোধীদলীয় কোটা থেকে কমিটির সদস্য করা হয়নি।’ এরপর আবারও ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’ চিফ হুইপ বলেন, ‘উনি (গাজী নজরুল) বিরোধী দলেরও না, সরকারি দলেরও না। দুটি কমিটিতে ওনাকে রাখা হলেও বিরোধী দলের অনুরোধে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ কমিটিতে ওনাকে সদস্য হিসেবে রাখা যেতে পারে, যতক্ষণ পর্যন্ত তার সদস্য পদ বাতিল না হয়। বিরোধী দলের আপত্তি না থাকলে আমাদের দল থেকেও কোনো আপত্তি নেই। তখন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কোটা থেকে যেহেতু ওনাকে সদস্য রাখা হয়নি। সে ক্ষেত্রে আমাদের আপত্তি নেই।

গাজী নজরুলের বিষয়ে সিইসি ও স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দল থেকে বহিষ্কার করা হলে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যপদ শূন্য হয় না। নিজ থেকে পদত্যাগ না করলে ৭০ অনুচ্ছেদ আসে না।’ বিরোধী দলকে একটা বুদ্ধি দিচ্ছেন জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনারা যদি সত্যি সত্যিই চান, তার আসনটি শূন্য হোক, তাহলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের পক্ষে তিনি ভোট দেননি। সেই জায়গায় ৭০ অনুচ্ছেদ কিন্তু আসে। এখন সেইটা নজরে নিয়ে যদি আপনারা স্পিকারের মনোযোগ আকর্ষণ করেন, তাকে (স্পিকার) চিঠি দেন বা নির্বাচন কমিশনে দেন, বিধি মোতাবেক সাংবিধানিকভাবে সহযোগিতা করতে পারি।’ এ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর আবার ফ্লোর নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দলের অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে, তারা গাজী নজরুলের সংসদ সদস্যপদ বহাল রাখতে চান। কিন্তু কমিটিতে রাখতে চান না। পরে গাজী নজরুল ইসলামের নাম বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

ধর্মমন্ত্রী ও এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীকে আস্তে কথা বলার পরামর্শ : জাতীয় সংসদকক্ষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে আস্তে আস্তে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বাতিল নোটিসের আলোচনার জন্য সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সদস্য সেলিনা সুলতানাকে ফ্লোর দেন ডেপুটি স্পিকার। সেলিনা সুলতানা ধর্মের অপব্যাখ্যা নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। তখন ধর্মমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখা যায়। বিষয়টি ডেপুটি স্পিকারের নজরে এলে তিনি ধর্মমন্ত্রী ও এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীকে বসে কথা বলার পরামর্শ দেন।