১৮ পদের ১১টি খালি, থমকে আছে ভূমিসেবা

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট চলছে। ১৮টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ১১টিই শূন্য। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। এতে ভূমিসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ তিন পদ- সহকারী কমিশনার (ভূমি), কানুনগো ও সার্ভেয়ার- বর্তমানে শূন্য। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুল ইসলাম গত জুলাইয়ে যোগদানের মাত্র ২০ দিনের মাথায় বদলি হন। কানুনগো সাইফুদ্দিন আহমেদ ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর বদলি হওয়ার পর থেকে পদটি খালি রয়েছে।

সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম প্রায় ৪ মাস আগে পদোন্নতি পেয়ে কমলগঞ্জ ভূমি অফিসে যোগ দেওয়ায় এ পদটিও শূন্য হয়ে যায়। বর্তমানে বাহুবল ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জোনায়েদ আহমেদ হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অধীন গ্রহণ শাখায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মাধবপুর ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া উপজেলা ভূমি অফিসে চেইনম্যান, জারিকারক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং নাজির কাম ক্যাশিয়ারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদও শূন্য। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

মাধবপুর উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে। এগুলো হলো মনতলা, মাধবপুর সদর, আদাঐর, নোয়াপাড়া ও কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস। এসব অফিসেও রয়েছে জনবল সংকট।

মনতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ছয়টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন চারজন। এ অফিসের আওতায় রয়েছে ৯৯টি মৌজা। ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, এলাকায় বালুমহাল থাকায় অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালাতে হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার দায়িত্বও রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে কর্মরতদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।

কালিকাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ছয়টি পদের মধ্যে চারটিই শূন্য। ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা লোকমান হোসেন বলেন, এলাকায় নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠায় ভূমিসংক্রান্ত কাজ বেড়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। অনেক সময় ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও ছুটি নেওয়া সম্ভব হয় না।

মাধবপুর সদর ও নোয়াপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুটি করে পদ শূন্য রয়েছে। আর আদাঐর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বর্তমানে একজন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও একজন এমএলএসএস কর্মরত আছেন।

জনবল সংকটের কারণে উপজেলা ভূমি অফিসেও একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কর্মরতদের কাজের চাপও বেড়েছে।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। সীমিত জনবল দিয়েই কর্মকর্তারা রাত পর্যন্ত কাজ করে দায়িত্ব পালন করছেন। শিগগিরই এ সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় ভূমি অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ই-নামজারি, খাজনা, ভূমিসংক্রান্ত তদন্ত, শুনানি ও অন্যান্য ডিজিটাল ভূমিসেবায় এর প্রভাব পড়ছে।

তাদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল দ্রুত নিয়োগ বা পদায়ন করা না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে। জনস্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা পদগুলো দ্রুত পূরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।