২০২৬ বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি হাতছাড়া হওয়ার বেদনা ভুলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা। ফিফার আসন্ন আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে দুটি কিংবা তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে আলবিসেলেস্তেদের। তবে প্রতিপক্ষ এবং ভেন্যু চূড়ান্ত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সোমবার আসার কথা থাকলেও, তা পিছিয়ে বুধবার পর্যন্ত স্থগিত করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানো মহাতারকা লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। ফাইনালে হারের ট্র্যাজেডি এবং বাবাকে হারানোর ব্যক্তিগত শোকের সময় পার করা ৩৯ বছর বয়সী এই জাদুকরী অধিনায়ককে অন্তত একটি শেষ ম্যাচে দেশের জার্সিতে মাঠে দেখতে চায় সবাই।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ইনফোবে-কে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা মেসির এই বিদায়ী ম্যাচ এবং স্কোয়াডের পরিকল্পনা নিয়ে জানিয়েছে, ‘আমরা চাই মেসি এসে একটি ম্যাচে ভক্তদের বিদায় জানাক, তবে আমরা তার সময়কে সম্মান করতে চাই এবং আমরা জানি না যে সে যা পার হয়ে এসেছে তারপর এখানে ভ্রমণ করতে চাইবে কি-না।’
একই সূত্র আরও জানায়, ‘স্কোয়াড তালিকাটি বিশ্বকাপের যাওয়া দলটির মতোই হবে বা খুবই কাছাকাছি থাকবে, সাথে সামান্য কিছু নতুন খেলোয়াড় যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে বুরকিনা ফাসো ও বেনিনের নাম শোনা গেলেও কনকাকাফ অঞ্চলের একটি দলের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
এদিকে আলবিসেলেস্তেদের কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ২০২৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের পর কোচের সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতের পর এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া চাইছেন তার সঙ্গে আলোচনা করে চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে।
আসন্ন এই আন্তর্জাতিক উইন্ডোটি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। এএফএ সূত্র মতে, স্কালোনি বাহিনীকে নিয়ে এবার তিনটি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের, যদিও দুটি ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে আফ্রিকার দুটি দেশের নাম জোরালোভাবে উঠে এসেছে, বুরকিনা ফাসো এবং বেনিন। এমনকি বুরকিনা ফাসো তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ম্যাচটির কথা নিশ্চিত করলেও পরবর্তীতে সেই পোস্টটি মুছে ফেলে।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩ অক্টোবর প্রথম ম্যাচ এবং ৬ অক্টোবর দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার একটি হতে পারে কর্ডোবার মারিও আলবার্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে এবং অন্যটি রিভার প্লেটের বিখ্যাত মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে। এছাড়া আরেকটি ম্যাচ রাখা হতে পারে এই তারিখগুলোর আগেই, যার জন্য কনকাকাফ অঞ্চলের একটি দলের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এএফএ।