আজ সেমিফাইনালের টিকিট পেতে লড়বে জ্যোতিরা

মেয়েদের এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের ধাক্কা সামলানোর আগে আরেক পরীক্ষার সামনে বাংলাদেশ। আজ (মঙ্গলবার) দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার শেষ সুযোগ নিগার সুলতানা জ্যোতিদের। অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনালে রূপ নেওয়া এই ম্যাচে জিতলেই শেষ চারে জায়গা হবে, হারলে বিদায়।

'বি' গ্রুপে বাংলাদেশ-আমিরাত দুই দলেরই এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে একটি করে জয়। দু'দলই শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেছে, জয় পেয়েছে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। ফলে শেষ ম্যাচে যে দল জিতবে, তারাই চার দলের গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে যাবে। 

বাংলাদেশের জন্য চাপটা অবশ্য একটু বেশিই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৪ উইকেটে হেরেছে তারা। ২০ ওভার খেলে মাত্র ১১৪ রানেই থেমে যায় জ্যোতিদের ইনিংস। বোলাররা শুরুতে দুর্দান্ত লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত সেই রান যথেষ্ট হয়নি। ফলে শেষ ম্যাচে এসে নিজেদের ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়াটা বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা।

শ্রীলঙ্কা ম্যাচের পর বাংলাদেশের ব্যাটার সোবহানা মোস্তারি নিজেদের ভুলের জায়গাগুলোও স্বীকার করেন। তার মতে, ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশামতো রান না হওয়াই শেষ পর্যন্ত বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। এখন আমিরাতের বিপক্ষে জয়ের দিকে তাকিয়ে তারা। এ নিয়ে মোস্তারি বলেন, 'সংযুক্ত আরব আমিরাত ভালো দল। এখন আমাদের নজর এই ম্যাচের দিকে। আমাদের সেমিফাইনালে যেতে ম্যাচটি জিততেই হবে।'

দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যান খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়। টি-টোয়েন্টি সংস্করণে এখন পর্যন্ত একমাত্র দেখায় জয় বাংলাদেশের। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সেই ম্যাচে আমিরাতকে মাত্র ৩৯ রানে অলআউট করে ৮ উইকেটে জেতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শক্তিমত্তার বিচারেও কাগজে-কলমে এগিয়ে বাংলাদেশ। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দল হিসেবে জ্যোতিরা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, বড় টুর্নামেন্টে খেলার অভ্যাস এবং শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটারদের ম্যাচ খেলার সুযোগে ইউএইর তুলনায় বেশ ওপরে। 

বাংলাদেশের মেয়েরা সর্বশেষ তিনটি এশিয়া কাপেই অন্তত সেমিফাইনালে খেলেছে। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২২ ও ২০২৪ আসরেও শেষ চারে জায়গা করে নেয়। এবার আমিরাতের বিপক্ষে হারলে সেই ধারায় ছেদ পড়বে। অর্থাৎ তিন আসর পর প্রথমবার সেমিফাইনালের আগেই এশিয়া কাপ থেকে বিদায় নিতে হবে বাংলাদেশকে।